অভিনয় থেকে পাকাপাকি বিদায় নিচ্ছেন রণবীর কাপুর? মেগা স্টারকে নিয়ে বলিপাড়ায় কাসুন্দি!

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান তারকা রণবীর কাপুরকে ঘিরে বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে এক চাঞ্চল্যকর জল্পনা শুরু হয়েছে। শাহরুখ খান ও সালমান খানের পরবর্তী প্রজন্মের অভিনেতাদের মধ্যে যিনি নিজের অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা দিয়ে বক্স অফিসে স্থায়ী রাজত্ব কায়েম করেছেন, সেই ‘বরফি’ খ্যাত ঋষিপুত্র এবার কি তবে অভিনয় জগৎকে পুরোপুরি বিদায় জানাতে চলেছেন? সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে রণবীর কাপুর নিজে মুখ খুলেছেন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। আর তাঁর সেই মন্তব্যের পরেই অনুরাগীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে যে, তবে কি খুব শীঘ্রই তাঁকে ক্যামেরার সামনে আর দেখা যাবে না?

চলতি সময়ে বহু প্রতীক্ষিত মহাকাব্যিক প্রজেক্ট ‘রামায়ণ: পার্ট ১’ ছবিটির প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন অভিনেতা। সেই প্রচারের ফাঁকেই এক সাক্ষাৎকারে রণবীর জানিয়েছেন যে, পরিচালক হওয়ার সুপ্ত ইচ্ছে তাঁর দীর্ঘদিনের। শুধু ইচ্ছের প্রকাশেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নেই, বরং তিনি গত কয়েক মাস ধরেই নিজের পরিচালনার প্রথম ছবির চিত্রনাট্য লেখার কাজ অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে শুরু করে দিয়েছেন। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই তাঁকে ক্যামেরার সামনে থেকে সরে সরাসরি পরিচালকের কুর্সিতে বসতে দেখা যেতে পারে বলেই খবর। তবে পরিচালনার কাজ যে মুখের কথা নয়, তা উপলব্ধি করেছেন অভিনেতা নিজেই। তাঁর মতে, একজন অভিনেতা শুধু নিজের শটটুকু দিয়ে ফাঁকা সময়ে অপেক্ষা করেন, কিন্তু একজন পরিচালককে সার্বিকভাবে গল্প, প্রতিটি চরিত্র, কলাকুশলী এবং ছবি তৈরির প্রতিটি খুঁটিনাটি দিক নিয়ে ২৪ ঘণ্টা ভাবতে হয়। একজন দক্ষ পরিচালক বহুমুখী প্রতিভাকে এক সুতোয় বেঁধে রূপালি পর্দায় একটি গল্প ফুটিয়ে তোলেন, যা এক ভীষণ সৃজনশীল ও তৃপ্তিদায়ক অভিজ্ঞতা।

নিজের সম্ভাব্য পরিচালনায় প্রথম ছবি কেমন হতে পারে, তারও কিছুটা আভাস দিয়েছেন রণবীর। তিনি নিজেকে নির্দিষ্ট কোনো একটি বিশেষ ঘরানায় আটকে রাখতে নারাজ। তবে তাঁর সর্বকালের পছন্দের ছবির তালিকায় রয়েছে ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’, ‘ইটস আ ওয়ান্ডারফুল লাইফ’ এবং স্বনামধন্য পরিচালক রাজকুমার হিরানির বেশ কিছু আইকনিক ছবি। অর্থাৎ, তিনি মূলত আবেগঘন, জীবনঘনিষ্ঠ এবং নিখাদ পারিবারিক সম্পর্কের আবহে তৈরি ‘ফিল গুড ফ্যামিলি ড্রামা’ দিয়েই পরিচালনার দুনিয়ায় হাতেখড়ি করতে চান। পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা প্রসঙ্গে রণবীর জানান, তিনি বছরে মাত্র ১০০ থেকে ১২৫ দিন শুটিং করেন, যার ফলে চিত্রনাট্য লেখা এবং পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য তিনি পর্যাপ্ত সময় বের করতে পারছেন।

তবে এখনই অভিনয় ছাড়ছেন না তিনি। হাতে থাকা বেশ কিছু মেগা প্রজেক্টের কাজ শেষ করার পরই তিনি পরিচালনার দিকে পুরোপুরি মন দিতে চান। রণবীরের পাইপলাইনে রয়েছে ‘ব্রহ্মাস্ত্র পার্ট ২’, ‘অ্যানিম্যাল পার্ট ২’ এবং ‘রামায়ণ’ ছবির পরবর্তী সিক্যুয়েলগুলির কাজ। এই সমস্ত বড় বাজেটের কাজগুলি শেষ করেই তিনি ক্যামেরার পেছনের কেরিয়ার শুরু করতে ইচ্ছুক। হঠাৎ কেন অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার ভাবনা? এই বিষয়ে অভিনেতার ব্যাখ্যা, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রুপালি পর্দায় বর্তমানের মতো ভিন্ন স্বাদের বা প্রধান চরিত্রগুলি পাওয়ার সুযোগ ভবিষ্যতে কেমন থাকবে, তা নিয়ে তাঁর মনে সামান্য সংশয় রয়েছে। তাই সময়ের আগেই তিনি ক্যামেরার পেছন থেকে নিজের সৃষ্টিশীলতাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যেতে চান।

প্রসঙ্গত, কাপুর পরিবারের রক্তেই রয়েছে চলচ্চিত্র পরিচালনা ও নির্মাণের জন্মগত প্রতিভা। রণবীরের প্রয়াত বাবা ঋষি কাপুর ১৯৯৯ সালে ‘আ আব লৌট চলে’ ছবিটি সফলভাবে পরিচালনা করেছিলেন, যেখানে মাত্র ১৫-১৬ বছরের কিশোর বয়সে বাবাকে সহকারী হিসেবে সাহায্য করেছিলেন স্বয়ং রণবীর। তাছাড়া তাঁর কিংবদন্তি ঠাকুরদা রাজ কাপুর ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও দূরদর্শী পরিচালক। ফলে কাপুর পরিবারের সেই শতাব্দীপ্রাচীন চলচ্চিত্র পরিচালনার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং গৌরবময় ধারা যে এবার নতুন প্রজন্মের হাত ধরে আরও একবার স্বর্ণযুগে ফিরতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।