‘ট্রাম্প কে শেষ করতে হবে!’ টেক্সাসের অনুপ্রবেশকারীর ট্রাকে ভারী অস্ত্রশস্ত্র, দ্ধার বিষাক্ত মারণাস্ত্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ছক ভেস্তে দিল মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থা। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে রনি ইয়র্ডরিক্স গুয়ানিপা চিরিনোস (Ronny Yordrix Guanipa Chrinos) নামের ২৬ বছর বয়সি এক ভেনেজুয়েলীয় যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)। বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউসের চরম সুরক্ষিত এলাকা থেকে সেই যুবককে আটক করা হয়। ধৃতের কাছ থেকে একঝাঁক মারণাস্ত্র ও প্রচুর কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে।
‘মাথার মধ্যে অদ্ভুত কণ্ঠস্বর!’ জেরায় অবিশ্বাস্য স্বীকারোক্তি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হোয়াইট হাউস চত্বরের কাছে একটি সন্দেহজনক নীল রঙের ফোর্ড এফ-১৫০ (Ford F-150) পিকআপ ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের এক আধিকারিকের সন্দেহ হয়। গাড়িটিতে থাকা চিরিনোসকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উঠে আসে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য।
তদন্তকারীদের দাবি, চিরিনোস জেরার মুখে জানান, তাঁর মাথার ভেতর আচমকা নাকি একটি অদ্ভুত কণ্ঠস্বর ভেসে ওঠে। কে যেন তাঁকে নির্দেশ দিয়ে বলে ওঠে— “যাও, ট্রাম্পকে খুন করে এসো!” এই অদ্ভুত ও বিস্ফোরক দাবির পরপরই তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়।
চোরাই ট্রাকে অস্ত্রের পাহাড় ধৃতকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে চোখ কপালে ওঠে গোয়েন্দাদের। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক অস্ত্রশস্ত্র।
একটি AR-15 রাইফেল
একটি MAC-10 মেশিন পিস্তল
একটি Glock 43x পিস্তল
কয়েক ডজন তাজা কার্তুজ
এখানেই শেষ নয়, গাড়িটির নম্বর প্লেট পরীক্ষা করে জানা যায়, ট্রাকটি সাউথ ক্যারোলিনা রাজ্য থেকে চুরি করে আনা হয়েছিল।
অবৈধ অনুপ্রবেশ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ ডিএইচএস (DHS)-এর দাবি অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সি রনি চিরিনোস ভেনেজ়ুয়েলার নাগরিক এবং মার্কিন মুলুকে তাঁর থাকার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। ২০২৪ সালে তিনি টেক্সাস সীমান্ত দিয়ে বেআইনিভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করেছিলেন। ধৃতের বিরুদ্ধে গাড়ি চুরি, বেআইনি সম্পত্তি রাখা এবং লাইসেন্স ছাড়া বিপজ্জনক রাইফেল ও পিস্তল বহন করার একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
আমেরিকান সিক্রেট সার্ভিসের ডিরেক্টর শন কারান এই বিষয়ে বলেন, “হোয়াইট হাউসের আশপাশে অস্ত্রসহ এমন বিপজ্জনক ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের উপস্থিতি আমাদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক উদ্বেগজনক।”
আদালতের কড়া অবস্থান গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে ওয়াশিংটনের ডিসি সুপিরিয়র কোর্টে হাজির করানো হয়। আদালতের অনলাইন নথি অনুযায়ী, বিচারক তাঁর জামিনের আর্জি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন এবং তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে আমেরিকান মার্শাল সার্ভিস এই হামলার চক্রান্তের পেছনে কোনো বড় জঙ্গি নেটওয়ার্ক বা কোনো দেশের হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ফৌজদারি মামলায় ছাড়া পেলেও অভিবাসন আইনের (ICE) অধীনে তাঁকে ফের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।