“কৃষ্ণের বাঁকা রূপের মহিমা আলাদা!” ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের সমর্থনে শ্রীকৃষ্ণের অদ্ভুত গল্প অনিরুদ্ধাচার্যের

রাম ও কৃষ্ণের রূপের তুলনা টেনে সম্প্রতি এক চরম বিতর্কের মুখে পড়েছেন বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু এই উত্তাল রাজনৈতিক ও সামাজিক আবহের মধ্যেই এবার ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কথাবাচক অনিরুদ্ধাচার্য মহারাজ। এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছেন যে, ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, তিনি যা বলেছিলেন তা আসলে ভক্তদের মধ্যে হওয়া নির্ভেজাল রসিকতা মাত্র।
সম্প্রতি এক ধর্মীয় সভায় ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী বলেছিলেন যে, ভগবান রাম অত্যন্ত সরল ও সোজা দেবতা, কিন্তু ভগবান কৃষ্ণের রূপ, নাম ও ভঙ্গি সবই কিছুটা বক্র বা বাঁকা। উপরন্তু, রামের ধনুক টানার চেয়ে কৃষ্ণের বাঁশি বাজানো যে অনেক সহজ, তাও তিনি মনে করিয়ে দেন। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।
তবে অনিরুদ্ধাচার্য মহারাজ ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর এই মন্তব্যকে পুরোপুরি সমর্থন করে জানান, ত্রেতাযুগের শ্রীরাম এবং দ্বাপরযুগের শ্রীকৃষ্ণ মূলত একই পরমাত্মা, শুধু লীলা পরিবেশনের তাগিদে আলাদা যুগে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বৃন্দাবন ও অযোধ্যা—উভয় স্থানের ভক্তরাই নিজের নিজের আরাধ্য দেবতাকে নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে মাঝে মাঝেই মিষ্টি রসিকতা করে থাকেন। বাগেশ্বর বাবাও সেই ভক্তিমূলক রসিকতার ছলেই এ কথা বলেছেন। নিজের বক্তব্যকে স্পষ্ট করতে অনিরুদ্ধাচার্য বৃন্দাবনের এক কৃষ্ণভক্ত ও শ্রীকৃষ্ণের রাখাল রূপ ধারণের একটি অলৌকিক কাহিনী শুনিয়ে বোঝান যে, ভক্তদের ভবসংসার পার করার জন্যই কৃষ্ণের রূপ বাঁকা। তাই এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক বাড়ানো অনুচিত।