“উপদেশ দেওয়া বন্ধ করুন!” আদালতের বাধানিষেধে ক্ষোভের বিস্ফোরণ, দীপাবলির আসল যন্ত্রণা কার?

দীপাবলি কেবল একটি উৎসব নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের আবেগ, পরিবারের মিলনমেলা এবং বেঁচে থাকার অক্সিজেন। সারা বছর হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে সাধারণ মানুষ এই কয়েকটি দিনের আলোর রোশনাইয়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। বাচ্চারা পটকা ফোটানোর আনন্দে মেতে ওঠে, পরিবার একসঙ্গে মিষ্টি ভাগ করে নেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দীপাবলিকে বাণিজ্যিকীকরণের বাইরে রাখা এবং পরিবেশ রক্ষার নামে আদালতের নানান বাধানিষেধ ও নির্দেশিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে উঠেছে। আদালতের পক্ষ থেকে পটকা ফোটানোর কড়া সময়সীমা বেঁধে দেওয়া এবং গ্রিন ক্র্যাকারের শর্ত চাপানোয় উৎসবের মূল আনন্দই ফিকে হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের তরফ থেকে তীব্র প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে। সমালোচকদের প্রশ্ন, দেশের উচ্চ আদালতের বিচারপতিরা নিজেরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন, সরকারি খরচে প্রিমিয়াম গাড়ি ও ওয়াই-ফাই সমৃদ্ধ সুরক্ষিত বাংলোয় থাকেন, তাঁদের পরিবার ও সন্তানেরা যখন সর্বরকম সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন, তখন সাধারণ মানুষকে কেন বারবার উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা হবে? কারপুলিং বা পরিবেশ রক্ষার যেসব উপদেশ সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তা কি নীতি নির্ধারকরা নিজেরাও অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন? এই দ্বিমুখী নীতি নিয়ে আজ সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
পরিবেশ দূষণ নিয়ে উদ্বেগ থাকা অন্যায় নয়, বিশেষ করে দিল্লি-এনসিআর বা মেট্রো শহরগুলোর ধোঁয়াশা পরিস্থিতি কারও অজানা নয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বছরের ৩৬৫ দিন ধরে চলা বেপরোয়া নির্মাণকাজ, কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য, এবং যানবাহনের কালো ধোঁয়ার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা না নিয়ে শুধুমাত্র দীপাবলির কয়েকদিনের আনন্দকে নিশানা করা কতটা যুক্তিযুক্ত? সুবিধাভোগী অবস্থান থেকে সাধারণ মানুষকে ত্যাগের পাঠ পড়ানো সহজ হলেও, উৎসবের আনন্দকে আইনি বেড়াজালে বন্দি করা মানুষের মৌলিক অনুভূতিতে আঘাত হানছে। সাধারণ মানুষের স্পষ্ট বার্তা—পরিবেশ রক্ষা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু তার দায় শুধু গরিব বা মধ্যবিত্তের উৎসবে কোপ বসিয়ে মেটানো যাবে না। মূল দূষণের উৎসগুলো বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখনই।