শামির অবসরে ফুঁসে উঠলেন রবি শাস্ত্রী! নির্বাচকদের কোন ভুলে টেস্ট থেকে বিদায় নিলেন বাংলার পেসার?

ভারতীয় ক্রিকেটে এক বর্ণময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়ে দীর্ঘ ১৩ বছরের টেস্ট কেরিয়ারকে বিদায় জানিয়েছেন বাংলার তারকা পেসার মহম্মদ শামি। ২০২৩ সালের জুনে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালই ছিল ভারতের জার্সিতে তাঁর শেষ টেস্ট ম্যাচ। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত পারফরম্যান্স করেও জাতীয় টেস্ট দলে আর ডাক পাননি তিনি। অবশেষে গত ৬ নভেম্বর টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করেন শামি। তবে তাঁর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রাক্তন কোচ রবি শাস্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট দাবি, শামির মতো প্রতিভাবান পেসারকে আরও বেশ কয়েকটি টেস্ট খেলানোর সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।

রবি শাস্ত্রীর মতে, টেস্ট ক্রিকেটে শামির ঝুলিতে আরও অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি উইকেট যোগ হওয়ার ক্ষমতা ছিল। দেশের হয়ে দীর্ঘদিন অসাধারণ সেবা দেওয়া একজন পেসারকে এভাবে ব্রাত্য করে রাখা অত্যন্ত দুঃখজনক। সাম্প্রতিক অতীতে ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিজের জাত চিনিয়েছেন শামি। ২০২৬ সালের দলীপ ট্রফিতে ইস্ট জোনের হয়ে তিন ম্যাচে ৭ উইকেট নেওয়ার পর, ২০২৬-২৭ রঞ্জি ট্রফির প্রথম তিন ম্যাচেই ১৪টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। দিল্লির বিরুদ্ধে ৫৯ রানে ৫ উইকেট এবং মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৩৭ রানে ৪ উইকেটের দুর্দান্ত পরিসংখ্যান সত্ত্বেও তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তোলায় নির্বাচকদের একহাত নিয়েছেন শাস্ত্রী।

দীর্ঘদিন শামিকে দলের বাইরে রাখার পক্ষে বোর্ডের যুক্তি ছিল তাঁর ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু এই যুক্তি উড়িয়ে শাস্ত্রীর প্রশ্ন, জিমে ঘাম ঝরিয়ে ফিট থাকার সার্টিফিকেট নেওয়ার চেয়ে মাঠে নেমে ১৫-২০ ওভার বল করার ক্ষমতা থাকাই তো আসল ফিটনেস। বাংলার হয়ে টানা ম্যাচ খেলে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করা সত্ত্বেও তাঁকে কেন অবমূল্যায়ন করা হলো, সেই প্রশ্নই তুলেছেন শাস্ত্রী। তবে টেস্টকে আলবিদা জানালেও ওডিআই ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন শামি। ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপেও তাঁর খেলার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে, শামির টেস্ট অধ্যায় শেষ হলেও সাদা বলের ক্রিকেটে তাঁকে ঘিরেই এখন নতুন স্বপ্নের জাল বুনছেন অনুরাগীরা।