‘সংবিধানের ঊর্ধ্বে কেউ নন!’ প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে পোস্ট বিতর্কে কেরলের কংগ্রেস নেতৃত্বকে বড় ধাক্কা দিল সুপ্রিম কোর্ট

দেশের বিচারব্যবস্থা এবং প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার জেরে চরম আইনি বিপাকে কেরলের কংগ্রেস নেতৃত্ব। ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্তকে উদ্দেশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্ট করার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কড়া পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (KPCC) পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিস জারি করেছে।
বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, সাংবিধানিক কাঠামোয় কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলই দেশের সংবিধান ও আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আদালতের সংযমকে কোনোভাবেই তাদের দুর্বলতা বলে ধরে নেওয়ার ভুল করা উচিত নয় বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
গত ১২ অক্টোবর কেরল কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে নিশানা করে একটি বিতর্কিত পোস্ট করা হয়। সেই পোস্টে লেখা হয়েছিল— “প্রিয় সূর্য কান্ত, আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি আপনার এক্তিয়ারভুক্ত না হলে এখনই পদত্যাগ করুন। আমরা আপনার এমন একজন বিকল্প খুঁজে নেব, যিনি এই দায়িত্ব সামলে নিতে পারবেন।” যদিও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরবর্তীতে সেই পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মুছে ফেলা হয়। কিন্তু বিষয়টি শীর্ষ আদালতের নজরে আসতেই আইনজীবী বিনিত জিন্দালের দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে এর ওপর স্বতঃপ্রণোদিত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভীতি প্রদর্শনের ঢাল হতে পারে না’
শুক্রবার মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা কোনো রাজনৈতিক সুবিধার বিষয় নয়। আদালতের রায় বা কাজের সমালোচনা যে কেউ করতেই পারেন, তা যত কঠোরই হোক না কেন। কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে বিচারব্যবস্থাকে ভয় দেখানো বা বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করা হলে তা শক্ত হাতে দমন করা হবে।
যদিও কংগ্রেসের আইনজীবী আদালতে সাফাই দিয়ে জানান যে, ওই পোস্টটি দলের দায়িত্বশীল অনুমতি ছাড়াই আপলোড করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা ডিলিট করে দিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও আদালতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার অভিযোগে নোটিস বহাল রেখে আগামী ১৫ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে শীর্ষ আদালত।