‘আত্মনির্ভর বাংলা’ গড়তে গিয়ে সব ভাতা বন্ধের চক্রান্ত? শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যে রাজ্যজুড়ে তীব্র আতঙ্ক!

কোভিড-পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার ঠিক সেই পথেই হাঁটতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্ব। তবে এই স্বনির্ভরতার ডাক দিতে গিয়েই রাজ্যজুড়ে এক চরম জল্পনা ও আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হয়েছে।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতৃত্ব একাধিক সভা থেকে বার্তা দিয়েছেন যে, বাংলাকে কেবল “ভাতা নির্ভর” সংস্কৃতিতে আটকে রাখা ঠিক নয়। রাজ্যকে নিজের পায়ে দাঁড় করাতে হবে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘আত্মনির্ভর বাংলা’র বার্তা সাধারণ মানুষ ও উপভোক্তাদের একাংশের মনে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠছে— তবে কি অন্নপূর্ণা যোজনা কিংবা অন্যান্য সরকারি জনকল্যাণমূলক সামাজিক ভাতা প্রকল্পগুলি বন্ধ করে দেওয়ার পথে হাঁটতে চাইছে সরকার?
বিরোধীদের সুর চড়া, শঙ্কিত লাখ লাখ উপভোক্তা
শুভেন্দুর এই বার্তাকে অস্ত্র করে ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছে বিরোধী দলগুলি। তাদের দাবি, সরকারি এই আর্থিক সহায়তাগুলো শুধু কোনো দান বা ভাতা নয়; বহু গরিব পরিবার এই টাকা দিয়ে তাঁদের জরুরি চিকিৎসা, পড়াশোনা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটান। অনেকে এই ক্ষুদ্র ভাতার ওপর ভরসা করে ছোটখাটো দোকান বা ব্যবসার সূচনাও করেছেন। এই অবস্থায় হঠাৎ করে জনকল্যাণমূলক ভাতা বন্ধ হয়ে গেলে চরম সংকটে পড়বেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি এবং পরবর্তী সময়ে তা বাস্তবায়ন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিপুল প্রভাব ফেলেছিল। পরবর্তীতে সাধারণ মহিলাদের জন্য ভাতার পরিমাণ ১৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি ভুক্ত মহিলাদের জন্য বাড়িয়ে ১৭০০ টাকা করা হয়। পরবর্তীতে ক্ষমতায় এসে বিজেপি নেতৃত্ব অন্নপূর্ণা যোজনাসহ অন্যান্য কিছু সুবিধার প্রসার ঘটালেও বর্তমান শুভেন্দু অধিকারীর “ভাতা নির্ভরতা কমানো”র বিবৃতি উপভোক্তাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
বিজেপির সাফাই: ডিবিটি বন্ধ নয়, অগ্রাধিকার শিল্পেই
তবে উপভোক্তাদের এই আতঙ্ক খারিজ করে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কোনো ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (DBT) বা চলমান জনকল্যাণমূলক ভাতা বন্ধ করার কথা বলেননি।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজ্যে এমন এক শিল্পবান্ধব ও কর্মসংস্থানমুখী পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মানুষ কেবল সরকারি ভাতার মুখাপেক্ষী না থেকে নিজেদের যোগ্যতায় স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভর হতে পারেন। সমাজে চিরস্থায়ী ভাতা নির্ভরতা কাটিয়ে তরুণ প্রজন্মকে স্বনির্ভর করে তোলাই সরকারের মূল অগ্রাধিকার।
ভাতা বনাম শিল্পায়নের এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনে আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয় রাজ্যের অর্থনীতি এবং জনগণের ভবিষ্যত, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল।