ক্রিপ্টো দুনিয়ায় ৬০০ কোটি ডলারের ডাকাতি! কিম জং উনের গোপন ‘হ্যাকার আর্মি’র হাড়হিম করা গল্প!

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধের মধ্যেও উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসক কিম জং উন কীভাবে এক অদৃশ্য সাম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন, তার হাড়হিম করা ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল। ক্রিপ্টো কারেন্সি এক্সচেঞ্জ ‘বাইন্যান্স’ (Binance)-এ হানা দিয়ে এক লহমায় ৬০০ কোটি ডলার লুটে নিয়েছে উত্তর কোরিয়ার সাইবার অপরাধীরা। এই নজিরবিহীন সাইবার ডাকাতির পরেই সব হ্যাকারদের ডেকে পিয়ংইয়ংয়ের বুকে বিলাসবহুল বাড়ি উপহার দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন খোদ কিম জং উন!

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি কেবল কোনো বিচ্ছিন্ন হ্যাকিংয়ের ঘটনা নয়; বরং বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আঘাত হানতে কিম জং উন গড়ে তুলেছেন আস্ত এক বিষাক্ত ‘হ্যাকার আর্মি’।

কীভাবে তৈরি হলো এই বিপজ্জনক হ্যাকার দল? গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার দলে বর্তমানে সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮,০০০-এ! ২০২৪ সালেও যা ছিল ৬,০০০-এর কাছাকাছি। এই গোপন সাইবার সেনাদল গঠনের গল্পটি অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং শিউরে ওঠার মতো।

কিম জং উন কয়েক বছর আগেই পিয়ংইয়ঙে একটি বিশেষ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করেন, যার একমাত্র লক্ষ্য ছিল বিশ্বমানের সাইবার বিশেষজ্ঞ ও হ্যাকার তৈরি করা। এই ব্রিগেডে যোগ দেওয়া সদস্যদের খুব কম তথ্যই জনসমক্ষে আনা হয়।

ছোট শিশুদের আনা হয় ‘বিশেষ মিলিটারী ট্রেইনিং’-এ ২০০৪ সালে উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় আশ্রয় নেওয়া কাং হিউং-কোয়াং নামের এক প্রাক্তন প্রশিক্ষকের বয়ানে উঠে এসেছে এই হ্যাকারদের তৈরির বিপজ্জনক রূপরেখা। কাং জানান, প্রতি বছর উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সবচেয়ে প্রখর বুদ্ধিমান ২০০ জন ছোট শিশুকে চিহ্নিত করে বেছে নেওয়া হয়।

এর পর সেই শিশুদের বিশেষ কলেজে ভর্তি করিয়ে বছরের পর বছর অত্যন্ত নিখুঁত ও কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সাধারণ সৈনিকদের মতোই মিলিটারী শৃঙ্খলা ও কঠোরতার মধ্যে দিন কাটাতে হয় তাদের। প্রাথমিক ধাপে গেম ও জুয়ার সাইট হ্যাক করার মাধ্যমে তাদের হাতের খড়ি হয়, পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন কিংবা বাইন্যান্সের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাইবার হামলা চালিয়ে কিমের ভান্ডার ভরানোই হয়ে ওঠে এদের প্রধান কাজ।

একদিকে বিশ্বমঞ্চে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রদর্শন, অন্যদিকে কোটি কোটি ডলারের অদৃশ্য সাইবার হানা— কিম জং উনের এই ৮,০০০ সদস্যের গোপন হ্যাকার ব্রিগেড এখন যে কোনো উন্নত ও শক্তিশালী দেশের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।