ফেসবুকে লাইভ করেই চরম পদক্ষেপ! ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী নেত্রী নিশা ভগতের রহস্যমৃত্যুতে তোলপাড় রাজ্য

সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ চলাকালীন মর্মান্তিক ও রহস্যজনকভাবে আত্মঘাতী হলেন ঝাড়খণ্ডের পরিচিত আদিবাসী নেত্রী নিশা ভগত। মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি সরাসরি ঝাড়খণ্ড পুলিশকে কাঠগড়ায় তুলে যান। লাইভস্ট্রিম চলাকালীন জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা এবং সরকারের কার্যপদ্ধতি নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। নিশা ভগতের এই আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গোটা ঝাড়খণ্ডজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত্যুর আগে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে শেষ পোস্টে নিশা লিখেছিলেন, “আমার মৃত্যুর জন্য ঝাড়খণ্ড পুলিশ দায়ী। তারা মিশনারিদের ভয় পায় না, টাকার জন্য নিজেদের বিক্রি করে দেয় না। ক্ষমতায় যেই থাকুক না কেন, জমি আমাদের, আমাদের জীবনও আমাদের।” ফেসবুক লাইভে এই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলার পরেই তাঁর এই চরম পদক্ষেপের খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। রাঁচির পিথোরিয়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে রাঁচির রিমস হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বর্তমানে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

সিবিআই তদন্তের দাবি এবং রাজনীতির ঝড় নিশা ভগতের এই মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না তাঁর অনুগামী ও স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। খোদ রাঁচির রিমস হাসপাতালে ছুটে যান ঝাড়খণ্ডের বিরোধীদলীয় নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডি এবং বিশিষ্ট ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। কীভাবে একজন লড়াকু আদিবাসী নেত্রী এমন চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হলেন, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।

ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কড়া ভাষায় রাজ্য সরকারকে নিশানা করেছেন বাবুলাল মারান্ডি। তাঁর দাবি, “ঝাড়খণ্ড এখন দালাল ও মাফিয়াদের কবলে চলে গেছে। একজন সংগ্রামী আদিবাসী কন্যার ওপর এমন মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল যে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। নিশা আত্মহত্যা করেননি, তাঁকে একপ্রকার খুনই করা হয়েছে।” ঘটনার নেপথ্যে থাকা দায়ী পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ সিবিআই তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, মৃত নেত্রী নিশা ভগত ২০২৪ সালের ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচনেও লড়াই করেছিলেন। সুদূর রাঁচি থেকে ঘটা এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।