বিশ্ববাজারে রক্তক্ষয়ী ধস, তবুও উলটো পথে হেঁটে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় শেয়ার বাজার!

শুক্রবার বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারের প্রবল পতনের ধাক্কা ও আতঙ্কের মাঝেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস গড়ল দেশীয় শেয়ার বাজার। মার্কিন মুলুকের ওয়াল স্ট্রিটে বড়সড় ধসের জেরে শুরুতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা ভীতি ও সংশয় তৈরি হলেও, পরবর্তীতে বাছাই করা হেভিওয়েট লার্জ-ক্যাপ শেয়ারে জোরদার কেনাকাটা শুরু হওয়ায় বাজার দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন বাজারে নাসডাক কম্পোজিট ৫.৫ শতাংশ, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ৪.৪ শতাংশ এবং ডাও জোন্স ৩.৪ শতাংশ পর্যন্ত পড়েছে। প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক ধসের আশঙ্কায় জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপির মতো প্রভাবশালী এশীয় বাজারগুলিও চরম ক্ষতির মুখে পড়ে। তা সত্ত্বেও গ্লোবাল মার্কেটের এই চরম নেতিবাচক আবহকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভারতীয় সূচকগুলি তাদের টানা ছ’দিনের অদম্য উত্থান সাফল্যের সঙ্গে ধরে রেখেছে। চলতি এই পিরিয়ডে সেনসেক্স এবং নিফটি উভয় সূচকই ৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নজির গড়েছে।
আইটি ও অটো খাতের শেয়ারের চাঙ্গা পারফরম্যান্সের হাত ধরেই মূলত বাজার এই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে সফল হয়েছে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) লাগাতার রেকর্ড কেনাকাটা এ দেশের বাজারকে রীতিমতো চাঙ্গা করে তুলেছে। গত ৫ নভেম্বর ফরেইন ইনভেস্টররা ভারতীয় শেয়ার বাজারে প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ করেছেন। এদিন ট্রেডিং চলাকালীন বিএসই সেনসেক্স ৫০০ পয়েন্টেরও বেশি লাফ দেয় এবং সমান্তরালে এনএসই নিফটি ৫০ সূচক ফের ২৪,৬৫৫০-এর ঘরে স্বস্তির প্রবেশ করে। সকাল ৯:৫৬ মিনিটে সেনসেক্স ৫৪৩.১২ পয়েন্ট বা ০.৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৯,৮৫৩.১৩-তে ট্রেড করছিল। দিনের শুরুতে সেনসেক্স ৭৯,৪১৩.৬৬-তে খুলেছিল এবং কিছুটা নিম্নমুখী হয়ে ৭৯,০১৬.০৫-এ নামলেও পরে তা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৭৯,৯৫৯.৪৮ পর্যন্ত উচ্চতা ছুঁয়েছিল। অন্যদিকে নিফটি ৫০ আগের দিনের ২৪,৫৩৬.৬০ থেকে ১২৫.৩০ পয়েন্ট বা ০.৫১ শতাংশ বেড়ে ২৪,৬৬১.৯০-তে গিয়ে পৌঁছায়, যার মধ্যে একসময় নিফটি ২৪,৬৭৩.৫৫-এর সর্বোচ্চ শিখরও স্পর্শ করেছিল।
বাজারের খাতওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হেভিওয়েট ও তথ্যপ্রযুক্তি (IT) শেয়ারের জোরালো হাত ধরে নিফটি আইটি সূচক ১.৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেনসেক্সের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলির মধ্যে মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রা সবচেয়ে বেশি ৫.২৭ শতাংশ লাফিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে। এর পরেই রয়েছে টাইটান (২.৮৬%), টিসিএস (১.৯২%), ইনফোসিস (১.৮২%) এবং এইচসিএল টেকনোলজিস (১.৬৩%)। অন্যান্য লাভজনক শেয়ারের তালিকায় আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক ১.৩৮%, ভারতী এয়ারটেল ১.২৮%, সান ফার্মা ১.১৮%, আইটিসি ১.০৮% এবং টেক মহিন্দ্রা ১.০২% পর্যন্ত বৃদ্ধি নথিভুক্ত করেছে। পাশাপাশি নিফটি অটো সূচক ০.৬১% এবং নিফটি প্রাইভেট ব্যাঙ্ক ০.৭৫% ইতিবাচক প্রবণতা দেখিয়েছে।
তবে সামগ্রিকভাবে হেভিওয়েট শেয়ারগুলি দারুণ ফল করলেও, ব্রডার মার্কেট বা মাঝারি ও ছোট শেয়ারের বাজার বেশ চাপে ছিল। বিশেষ করে নিফটি মিডক্যাপ ১০০ ০.৭৬%, নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ ১.৩৮%, নিফটি মিডক্যাপ ৫০ ০.৬০% এবং নিফটি স্মলক্যাপ ৫০ ১.৩০% পর্যন্ত পড়েছে। এছাড়া নিফটি নেক্সট ৫০ ০.৮৪% এবং নিফটি ৫০০ ০.১১% হ্রাসের শিকার হয়েছে। এদিন ক্ষতির তালিকার শীর্ষে ছিল পাওয়ার গ্রিড (-২.২৪%), এশিয়ান পেইন্টস (-১.২৮%), বিইএল (-১.১৫%) এবং টাটা স্টিল (-০.৯৬%)। পাশাপাশি ইন্ডিয়া ভিক্স (India VIX) ৭.৫ শতাংশ লাফিয়ে ১৬.৭৫-এ পৌঁছানোয় বাজারের ভেতরের অন্তর্নিহিত অস্থিরতা ও ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। (দাবিত্যাগ: বাজারে বিনিয়োগ করা অত্যন্ত ঝুঁকিসাপেক্ষ। তাই যেকোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ আর্থিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।)