দূষণের চাদরে ঢাকছে শহর! ঘর থেকে বেরোনোর আগে এই মারাত্মক ভুলগুলি করছেন না তো?

ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুতর এবং ভীতিপ্রদ উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সরাসরি আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। বাতাসে উন্মুক্ত অবস্থায় থাকা অতিসূক্ষ্ম পিএম ২.৫ (PM2.5) এবং পিএম ১০ (PM10) এর মতো বিষাক্ত কণাগুলি শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহজেই আমাদের ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে থাকে। এর ফলে মানবদেহে অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস এবং হৃদরোগের মতো জটিল সব স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বায়ুর গুণমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) যখন অত্যন্ত বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছায়, তখন অজান্তেই আমরা কিছু মারাত্মক ভুল করে ফেলি। দূষণের এই কোপ থেকে নিজেদের সুস্থ রাখতে এই ভুলগুলি এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। দেখে নেওয়া যাক, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন সাধারণ ভুলগুলি আমাদের অজান্তেই চরম ক্ষতি ডেকে আনছে।
প্রথমত, সাধারণ কাপড়ের মাস্ক বা পাতলা সার্জিক্যাল মাস্ককে সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করা এক বিরাট ভুল। বাতাসে ভেসে বেড়ানো পিএম ২.৫ এবং পিএম ১০ কণাগুলি এতই ক্ষুদ্র ও সূক্ষ্ম যে, সেগুলি সহজেই এই ধরনের সাধারণ মাস্কের ছিদ্র ভেদ করে ফুসফুসে ঢুকে পড়ে। তাই বাইরে বেরোতেই হলে অবশ্যই ভালোভাবে মুখের সঙ্গে ফিট করা এন-৯৫ (N95) মাস্ক ব্যবহার করা উচিত, যা নাক ও মুখ পুরোপুরি ঢেকে রাখতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত, মাত্রাতিরিক্ত দূষণের মধ্যেও অনেকেই বাইরে গিয়ে শরীরচর্চা বা মর্নিং ওয়াক চালিয়ে যান। ব্যায়ামের সময় আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি ও গভীরতা অনেকটাই বেড়ে যায়, যার ফলে স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় বহুগুণ বেশি বিষাক্ত দূষিত পদার্থ ফুসফুসে প্রবেশ করে। তাই দূষণের মাত্রা তীব্র থাকলে বাইরে দৌড়ানোর বদলে ঘরের ভেতরেই হালকা শরীরচর্চা করা শ্রেয়।
তৃতীয়ত, দূষণের মাত্রা যখন চরমে থাকে, তখন অনেকে অবহেলায় ঘরের জানালা-দরজা খোলা রাখেন। এর ফলে বাইরের বিষাক্ত ও ধোঁয়াশাচ্ছন্ন বাতাস সহজেই ঘরের অন্দরে প্রবেশ করে ঘরের পরিবেশকেও দূষিত করে তোলে। দূষণ বেশি থাকলে ঘর বন্ধ রাখাই ভালো, তবে বিকেলের দিকে যখন দূষণের মাত্রা কিছুটা কমে আসে, তখন কিছুক্ষণের জন্য জানলা খুলে ঘরের অন্দরে বিশুদ্ধ বাতাস চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া যেতে পারে। চতুর্থত, দীর্ঘদিন ধরে চলা কাশি, শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো শব্দ হওয়া, বুকে অহেতুক চাপ বা সামান্য পরিশ্রমে শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণগুলিকে অনেকেই সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে উপেক্ষা করেন। কিন্তু এই ছোট লক্ষণগুলিই অনেক সময় বড় কোনো রোগের সতর্কবার্তা হতে পারে, তাই অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পঞ্চমত, ঘরে একটি ভালো মানের ‘হেপা’ (HEPA) ফিল্টারযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার থাকলেই মানুষ নিজেকে পুরোপুরি নিরাপদ ভেবে ভুল করেন। এয়ার পিউরিফায়ার ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখলেও বারান্দায় বা বাড়ির বাইরে পা রাখলেই আপনি আবার মারাত্মক দূষণের সংস্পর্শে চলে আসেন। তাই ঘরের বাইরে গেলে সমান সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। (বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য শুধুমাত্র সচেতনতা ও সাধারণ ধারণার জন্য। যেকোনো স্বাস্থ্যগত পদক্ষেপ বা পরামর্শ অনুসরণের পূর্বে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।)