হাসিমুখে স্কুলে গেল ছেলে, ফিরল নিথর দেহ! অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের আকস্মিক মৃত্যু, শোকে পরিবার

সকালে হাসিমুখে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বাড়ি থেকে স্কুলে গিয়েছিল ১৩ বছরের কিশোর। বাবা নিজের হাতে তাকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে ফিরছিলেন। কিন্তু কে জানত, সেটাই হবে সন্তানের সঙ্গে তাঁর জীবনের শেষ দেখা! স্কুলে পৌঁছনোর কিছুক্ষণ পরই ক্লাসের ভেতর মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রের। উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের জানকিপুরম এলাকার এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মৃত কিশোরের নাম অর্থব ওরফে ডুগ্গুর (১৩)। সে লখনউয়ের একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল এবং তার বাবা প্রেম সিং পেশায় একজন কাপড়ের ব্যবসায়ী। একমাত্র সন্তানকে এভাবে নিমেষে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পুরো পরিবার।
ক্লাসে ঢুকেই মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে পড়ুয়া
ঘটনাটি ঘটেছিল গত বুধবার সকালে। প্রতিদিনের মতো সেদিনও প্রেম সিং তাঁর ছেলে অর্থবকে নিজের হাতে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে এসেছিলেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মীনা তাংড়ির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্লাসে ঢোকার মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই হঠাৎ পিছনের দিকে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে সে। তখনও তার পিঠে ঝোলানো ছিল স্কুলব্যাগটি।
আচমকা এই ঘটনায় ক্লাসের শিক্ষক ও সহপাঠীরা প্রথমে ঘাবড়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়ে অর্থব। শিক্ষকরা তৎক্ষণাৎ তাকে উদ্ধার করে স্টাফরুমে নিয়ে যান। কিন্তু তার শরীরে কোনো সাড়াশব্দ না মেলায় স্কুল কর্তৃপক্ষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে তার বাবাকে খবর দেওয়া হয়।
স্কুল থেকে ফোন পেয়ে ছুটে যান বাবা
ছেলের অসুস্থতার খবর পাওয়া মাত্রই তড়িঘড়ি স্কুলে ছুটে যান বাবা প্রেম সিং। শিক্ষকদের সহযোগিতায় দ্রুত তাকে কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের আশা ছিল, সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে হয়তো ছেলেকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা অর্থবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
যে সন্তানকে মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের হাতে স্কুলে দিয়ে এসেছিলেন, তাঁর এহেন নিথর দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে—তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না শোকাচ্ছন্ন বাবা-মা। জানা গিয়েছে, অর্থব ছিল তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তাকে ঘিরেই ছিল পরিবারের সমস্ত স্বপ্ন।
মৃত্যুর নেপথ্যে কি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট?
মাত্র ১৩ বছর বয়সে কীভাবে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে চারদিকে প্রশ্ন উঠছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, আকস্মিক কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের (Cardiac Arrest) কারণেই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে ওই স্কুলছাত্রের।
চিকিৎসকদের মতে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এমন এক জরুরি শারীরিক পরিস্থিতি, যেখানে হৃৎপিণ্ড আচমকাই রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দেয়। এর ফলে মস্তিষ্কসহ শরীরের সমস্ত vital organs-এ অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি মুহূর্তের মধ্যে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে পারেন।
পুলিশের উপস্থিতি ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে পৌঁছায় স্থানীয় পুলিশও। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ আধিকারিকরা। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমানের পর মৃত ছাত্রের পরিবার আপাতত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে চায়নি। পুলিশের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা না পড়লেও, এই আকস্মিক মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছে সকলকেই। স্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে সহপাঠী—সকলেই এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকাহত।