কয়েক দশকের মহারণ শেষ! সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে কপাল খুলল হিমাচল প্রদেশের

হিমাচল প্রদেশ, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা—এই তিন প্রতিবেশী রাজ্যের মধ্যে ভাকরা-নাঙ্গাল এবং বিয়াস প্রকল্পের বিদ্যুৎ ভাগাভাগি নিয়ে বহু দশক ধরে চলা জটিল আইনি বিবাদের অবশেষে ঐতিহাসিক সমাধান হলো। দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টের সরাসরি মধ্যস্থতায় এক টাকাও নগদ লেনদেন না করে এক অভিনব ‘ক্যাশলেস’ চুক্তির মাধ্যমে এই জটিলতার অবসান ঘটানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই যুগান্তকারী সমঝোতায় অনুমোদন দিয়েছেন, যার ফলে হিমাচল প্রদেশ আগামী ২০ বছরে মোট ১১,৯৭৩ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ লাভ করবে।

দীর্ঘদিন ধরে ভাকরা-নাঙ্গাল এবং বিয়াস জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৭.১৯ শতাংশ ভাগের দাবি জানিয়ে আসছিল হিমাচল প্রদেশ। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যটির মোট প্রাপ্য বিদ্যুতের পরিমাণ ছিল ১৩,০৬৬ মিলিয়ন ইউনিট। কিন্তু সময়ের ব্যবধান এবং পদ্ধতিগত বিরোধের কারণে এই প্রাপ্য আদায় আটকে ছিল। সুপ্রিম কোর্টে ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরামানির নেতৃত্বে রাজ্যগুলোর মধ্যে একের পর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শেষ পর্যন্ত এই আলোচনার মাধ্যমেই নগদ অর্থ আদান-প্রদান ব্যতিরেকে একটি সর্বসম্মত ‘ক্যাশলেস ফিনান্সিয়াল সেটেলমেন্ট’ চুক্তি তৈরি করা সম্ভব হয়।

প্রস্তাবিত এই সমঝোতা অনুযায়ী, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা আগামী ২০ বছর ধরে পর্যায়ক্রমে হিমাচল প্রদেশকে তাদের বকেয়া বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। পাশাপাশি বাঁধ নির্মাণের জন্য অতীতে ব্যয়িত ৪২০ কোটি টাকার মূলধনী খরচেরও হিসাব সমন্বয় করা হবে। বিদ্যুৎ ফেরতের সময়সীমা নিয়ে হিমাচল প্রদেশ ১০ বছর এবং পাঞ্জাব ৩০ বছরের দাবি জানালেও, সুপ্রিম কোর্ট সমস্ত পক্ষের যুক্তি বিবেচনা করে ২০ বছরের মধ্যবর্তী সমাধান চূড়ান্ত করেছে। শীর্ষ আদালতের ২০১১ সালের ঝুলে থাকা আদেশ বাস্তবায়নে এটি একটি পরম মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।