সিনেমা জগতে বড় ধাক্কা! ৩৫ বছর পর বদলাল সেন্সর বোর্ডের নিয়ম, নতুন কড়াকড়িতে বিপাকে নির্মাতারা?

ভারতীয় সিনেমার সেন্সরশিপ ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক ও বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র পর্ষদ বা সিবিএফসি-র ছবি ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশিকা নতুন করে সাজানো হলো। ১৯৯১ সালের পুরনো নিয়ম বাতিল করে জারি করা হয়েছে এক সম্পূর্ণ নতুন কাঠামো। মাদক সেবন, ধূমপান, যৌন হিংসা, নারীর উপযুক্ত সম্মান, শিশুদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং ছবির শিরোনাম—একাধিক স্পর্শকাতর বিষয়ে এবার আরও কঠোর ও স্পষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফলে আগামী দিনে ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিচালক ও প্রযোজকদের আরও অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের এই সংশোধিত নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হলো বর্তমান সমাজের মূল্যবোধের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলচ্চিত্রের শংসাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করে তোলা। অপরাধ বা হিংসার দৃশ্যকে মহিমান্বিত করা কিংবা অপ্রয়োজনীয় নিষ্ঠুরতা দেখানোর ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে শিশু, নারী এবং পশুদের উপস্থাপনার ক্ষেত্রে কড়া নজরদারি রাখা হবে। নারীদের হেয় প্রতিপন্ন করা বা অতিরিক্ত বিশদ যৌন হিংসার দৃশ্য এড়িয়ে চলার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, মাদক ও তামাক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিবদ্ধ সতর্কবার্তা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি এই বদভ্যাসগুলিকে আকর্ষণীয় করে তোলার প্রবণতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে শুধু কড়াকড়ি নয়, সৃজনশীল স্বাধীনতা এবং শিল্পের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার কথাও স্পষ্ট জানানো হয়েছে। পর্ষদ জানিয়েছে, শুধুমাত্র কয়েকটি বিচ্ছিন্ন দৃশ্য দেখে নয়, বরং গোটা ছবির কাহিনি, সামগ্রিক প্রভাব এবং ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বিচার করেই ছাড়পত্র দেওয়া হবে। তবে শিল্পের স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়িত্বের এই ভারসাম্য আদতে কতটা বজায় থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।