“বড্ড দেরিতে বুদ্ধি ফিরল!” বিমান বসুর চরম সত্য ফাঁস করতেই ঝোড়ো হাততালি শমীক ভট্টাচার্যের!

রাজ্যে নতুন সরকারের শিল্পনীতি ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। রাজ্য সরকারের নতুন নীতি প্রকাশের সময় মূলত সাবেক বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলের শিল্পনীতি নিয়েই কড়া সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সেই সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু যা বলেছেন, তাতেই কার্যত তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বিমানের দাবি, শিল্পনীতিতে সমস্যা থাকলে তার মূল দায় জ্যোতি বসুর; বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কেবল সেই নীতি কার্যকর করার চেষ্টা করেছিলেন।

বিমান বসুর এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্যের পরেই তাঁকে খোলাখুলি সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এটিকে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের ‘বিলম্বিত বোধোদয়’ বলে উল্লেখ করে শমীক বলেন, “দেরিতে হলেও এমন সত্যি কথা বলার সাহস উনি দেখিয়েছেন, তার জন্য তাঁকে অনেক অভিনন্দন।” একই সঙ্গে শমীক মনে করিয়ে দেন, তৎকালীন বাম জমানাতেই বাংলায় এক চরম শিল্পবিরোধী পরিবেশ গড়ে উঠেছিল। বিড়লা শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধার আদিত্য বিড়লাকে নিগৃহীত করে রাজ্য ছাড়া করা থেকে শুরু করে প্রযুক্তি ও কম্পিউটারের বিরোধিতা—সবকিছুর পেছনেই ছিল ভুল নীতি ও উগ্র ট্রেড ইউনিয়নবাদ।

বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য শুধু বাম জমানাকেই নয়, পাশাপাশি পূর্ববর্তী তৃণমূল জমানাকেও একযোগে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি এবং ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কারণেই বাংলায় এতদিন কোনো বড় শিল্প আসেনি। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, রাজ্য সরকারের সদ্য ঘোষিত শিল্পনীতির পর খুব জলদি এক যুগান্তকারী জমি নীতিও প্রকাশ করা হবে, যা রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।