“আগের মতো ভুয়ো মৌ সই হবে না!” ৮টি বাণিজ্য সম্মেলনে ৬৫০ কোটি নষ্টের হিসেব তুলে শুভেন্দুর মারাত্মক তোপ!

পশ্চিমবঙ্গের বুকে শিল্পের ইতিহাস ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে বরাবরের মতোই রয়েছে সিঙ্গুর। নতুন সরকারের পালাবদলের পর রাজ্যের অর্থনৈতিক গতিপথ কোন দিকে মোড় নেবে, সেদিকেই নজর ছিল প্রত্যেকের। অবশেষে নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের বিশেষ দিনে সিঙ্গুর নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সিঙ্গুরে শিল্প নিয়ে সরকারের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি স্পষ্ট জানান, “আমরা সিঙ্গুর নিয়ে নিশ্চয়ই কিছু একটা করব। কথা বার্তা ইতিমধ্যেই এগোচ্ছে।”

বিগত সরকারের বাণিজ্য সম্মেলনকে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকারের মতো শুধু মৌ সইয়ের নাটক আমরা করব না। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, গত আমলের ৮টি বাণিজ্য সম্মেলনে রাজ্য সরকারের ৬৫০ কোটি টাকা স্রেফ অপচয় হয়েছে!” শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সরকারের জমি নীতি স্পষ্ট করে জানান, বড় শিল্পের জন্য জমির কোনো অভাব হতে দেওয়া হবে না। বাম জমানার উগ্র শ্রমিক আন্দোলন এবং তৃণমূল জমানায় ‘সিন্ডিকেট-কাটমানি’ ও তোলাবাজির সংস্কৃতির দরুন রাজ্যের প্রায় ২ কোটির বেশি শিক্ষিত বেকার বাইরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু এখন রাজ্যে সেই ভয় কেটে গিয়ে ভরসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

শিল্পপতিদের সরাসরি জমি কেনার ঝামেলা এড়াতে রাজ্য সরকার নিজেই বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বহু সরকারি জমি ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিগত সরকারের দেওয়া যেসব জমি বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়েছিল, সেই সব সংস্থাকে ফেরত দেওয়ার নোটিশ জারি করা হয়েছে। ফেরত নেওয়া জমির অর্থ ফিরিয়ে দিয়ে সরকার নাবার্ড, হাডকো এবং অন্যান্য বড় ব্যাঙ্কের সহযোগিতায় একটি বিশেষ তহবিল গঠন করছে, যা দিয়ে নিজস্ব ল্যান্ডব্যাঙ্ক তৈরি করে শিল্পপতিদের হাতে দ্রুত তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।