রাজনীতির চাল বদলাল রাতের অন্ধকারে! দলবদল করে ফিরলেন কোন বিধায়ক? জল্পনা তুঙ্গে

মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামিম আহমেদ। একসময়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লেখালেও, রাতারাতি ভোলবদল করে সোজা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষেই অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় ইমেল করে তিনি জানিয়ে দিলেন, বিরোধী শিবিরে তাঁর নামে জমা পড়া সমস্ত হলফনামা যেন সম্পূর্ণ খারিজ করা হয়।
রাজনীতির অন্দরের হিসাব যে ক্ষণে ক্ষণে বদলায়, তা ফের প্রমাণিত। বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর একসময় দলত্যাগ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন এই বিধায়ক। এমনকি, বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রতকে সমর্থন জানিয়ে যে কাগজগুলিতে বিধায়কদের স্বাক্ষর সংগৃহীত হয়েছিল, তার মধ্যে শামিম আহমেদের সইও উপস্থিত ছিল। তবে গত বৃহস্পতিবার রাতে সব হিসেব নিকেশ ওলটপালট হয়ে যায়। নাটকীয়ভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা যায় তাঁকে। আর ঠিক তার পরই রাতের বেলা নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি ইমেল পাঠিয়ে মগরাহাট পশ্চিমের এই বিধায়ক জানিয়ে দেন, তিনি বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মূল দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দলবদল এবং ঘরের ছেলেকে ঘরে ফিরিয়ে আনার ট্রেন্ড নতুন নয়। এর আগে গত অগাস্ট মাসেই আমডাঙার বিধায়ক কাসেম সিদ্দিকি ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবির ছেড়ে সোজা ‘মমতা অনুগামী তৃণমূল’-এ নাম লিখিয়েছিলেন। কুণাল ঘোষের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, ভুল বুঝিয়ে এবং সাময়িক বিভ্রান্তির বশবর্তী হয়েই তাঁকে অন্য শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের সমর্থন যে এখনও কালীঘাটের দিকেই রয়েছে, তা জোরালোভাবে দাবি করে প্রয়োজনে গোপন ব্যালটে ফ্লোর টেস্টেরও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল মমতা শিবির।
বিশ্লেষকদের অভিমত, বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসে যে ভাঙন বা দলবদলের হিড়িক দেখা গিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে মোড় নিচ্ছে। ঋতব্রত শিবির ছেড়ে একে একে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছেন। শামিম আহমেদের আগে বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক তৌসিফুর রহমান এবং বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দারও পুরনো শিবিরে ফিরে আসেন। লোকসভা বা বিধানসভার পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে এই ধারাবাহিক দলবদল শাসক দলের অন্দরে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।