রাত সাড়ে আটটায় শালি নদী থেকে উঠে এল মৃত্যুদূত! চোখের পলকে সব শেষ, বেলিয়াতোড়ে মর্মান্তিক পরিণতি প্রৌঢ়ের

রাত তখন আটটা থেকে সাড়ে আটটা। চারপাশ জঙ্গলঘেরা, সঙ্গে শালি নদীর জলরাশি। নির্জন ও ফাঁকা রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে ছুটছিল একটি মোটরবাইক। কিন্তু সেই অন্ধকারের বুক চিরে যে সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত অপেক্ষা করছিল, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি বাইক আরোহীরা। আচমকাই নদী থেকে উঠে এসে সরাসরি বাইকের সামনে হাজির হয় একটি বিশালাকার হাতি। চালক ব্রেক কষে সামলানোর আগেই বাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর আছড়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর বাইকের পিছনে থাকা আরোহী কোনোমতে উঠে অন্ধকারের মধ্যে জীবন বাঁচাতে দৌড় লাগান। কিন্তু বাইকটি চালকের গায়ের ওপর পড়ে থাকায় তিনি নিজেকে মুক্ত করার পর্যাপ্ত সময় পাননি। মুহূর্তের মধ্যেই সেই উন্মত্ত হাতিটি ধেয়ে এসে তাঁর ওপর আক্রমণ চালায়। দাঁতাল হাতির নির্মম পিষে দেওয়াতে ঘটনাস্থলেই সব শেষ হয়ে যায়।

বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়ের বেলুট এলাকায় ঘটা এই ভয়াবহ হাতির হানায় নিহত প্রৌঢ়ের নাম বরেন তুং (৬৭)। তিনি বেলিয়াতোড়ের বাঁকুড়ারডাঙা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। বন দফতর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে সঙ্গীসহ বাইকে চেপে বাড়ি ফেরার পথেই শালি নদীর সংলগ্ন বেলুট এলাকায় এই মর্মান্তিক বিপদের মুখে পড়েন তিনি।

খবর পেয়েই আশপাশের গ্রামের মানুষজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রক্তাক্ত বরেন তুংকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বেলিয়াতোড় জুড়ে তীব্র শোক ও হাতির তাণ্ডব নিয়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, জঙ্গলঘেরা রাস্তায় হাতির গতিবিধির ওপর বন দফতরের কড়া নজরদারি ও আগাম সতর্কতার অভাবেই এই মৃত্যু।