উৎসবের মুখেই পকেটে বড় কোপ! এক ধাক্কায় লিটারপিছু ৫০ টাকা বাড়ল আমুল ঘিয়ের দাম

উৎসবের মরশুমের মুখেই দেশের আমআদমির রান্নাঘরে বড় ধাক্কা! দেশজুড়ে এক ধাক্কায় ঘি এবং মাখনের দাম বাড়াল জনপ্রিয় দুগ্ধজাত সংস্থা ‘আমুল’ (Amul)। উৎসবের দিনে মিষ্টি ও রকমারি রান্নার প্রস্তুতি যখন ঘরে ঘরে তুঙ্গে, ঠিক তখনই লিটারপিছু ঘিয়ের দাম ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হলো। এর পাশাপাশি ৫০০ গ্রাম ও ১০০ গ্রামের আমুল বাটার বা মাখনের প্যাকেটের দামও বেশ কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

১. ঘি ও মাখনের নতুন রেট চার্ট

সংস্থার নতুন নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী—

  • আমুল ঘি: এখন থেকে এক কেজি বা এক লিটার আমুল ঘি কিনতে পকেট থেকে খসবে ৬৮০ টাকা। আগে এই ঘিয়ের দাম ছিল ৬৩০ টাকা, অর্থাৎ সরাসরি ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

  • আমুল মাখন (৫০০ গ্রাম): ৫০০ গ্রাম মাখনের প্যাকেটে ১৫ টাকা দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে ৩১০ টাকার মাখনের প্যাকেট এখন মিলবে ৩২৫ টাকায়।

  • আমুল মাখন (১০০ গ্রাম): ছোট অর্থাৎ ১০০ গ্রামের মাখনের প্যাকেটে ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আগে যা ছিল ৬৩ টাকা, বর্তমানে তার দাম দাঁড়িয়েছে ৬৬ টাকা।

২. কেন হঠাৎ এই আকাশছোঁয়া দাম বৃদ্ধি?

উৎসবের মরশুমে বাজারে ঘি ও মাখনের চাহিদা এক ধাক্কায় অনেকখানি বেড়ে যায়। অতিরিক্ত চাহিদার সঙ্গে জোগানের ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি বাজারে সরবরাহ কম থাকায় নামী এই ব্র্যান্ডের পণ্যের চাহিদা আরও বাড়ে। সেই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নকল ঘি ও মাখন বাজারে ছড়ানোর চেষ্টা করছিল। মূল্য পরিবর্তনের ফলে দামের তারতম্য দেখে ক্রেতারা সহজেই আসল-নকল চিনতে পারবেন এবং কালোবাজারি কমবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

৩. দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সামগ্রিক চিত্র

শুধুমাত্র ঘি বা মাখন নয়, দেশজুড়ে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। সম্প্রতি কংগ্রেসশাসিত কর্ণাটক সরকার তাদের নন্দিনী ব্র্যান্ডের শুভম দুধের দাম লিটারপিছু ৮ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১লা নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে সেখানে লিটারপিছু দুধের দাম ৫২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা। আমুলের পক্ষ থেকে ঘি ও মাখনের দাম বাড়ানোয় স্বাভাবিকভাবেই উৎসবে সাধারণ মানুষের বাজেটে বাড়তি চাপ পড়তে চলেছে।