নির্বাচনে ভরাডুবিতেই নীতীশ-পুত্রের রাজ্যাভিষেকের দাবি! জেডিইউ বৈঠকে শোরগোল ফেলে দিলেন দলের নেতারাই

বিহারে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধান পরিষদ বা এমএলসি (MLC) নির্বাচনে দলের অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক করল জনতা দল (ইউনাইটেড) বা জেডিইউ। দলের রাজ্য কার্যালয়ে জেডিইউ-এর জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি সঞ্জয় ঝা-র সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে নির্বাচনী বিপর্যয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি, বৈঠকে নীতীশ কুমার পুত্র নিশান্ত কুমারকে রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখার দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
১. নির্বাচনে পরাজয়ের দায় এবং জোট মিত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
এবারের এমএলসি নির্বাচনে তিনটি আসনে ভরাডুবি হয়েছে জেডিইউ-এর। দলের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা সভায় পরাজিত তিন জেডিইউ প্রার্থীর মধ্যে দুজন তাঁদের পরাজয়ের সমস্ত দায় সরাসরি জোটসঙ্গী বিজেপির কাঁধে চাপিয়েছেন। মিত্রপক্ষের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে তাঁরা ক্ষোভ উগরে দেন। একই সঙ্গে, দলের মধ্যে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দলবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও এদিনের বৈঠকে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২. নিশান্ত কুমারকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করার জোরালো দাবি
বৈঠকের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের পুত্র নিশান্ত কুমার। জেডিইউ-র একাংশ নেতা ও কর্মী প্রকাশ্যেই দাবি তুলেছেন যে, দলের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটাতে নিশান্ত কুমারকে অবিলম্বে রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হোক। এই দাবিতে দলের অন্দরে স্লোগানও উঠতে দেখা যায়, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।
৩. নিশান্তের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সঞ্জয় ঝা
বৈঠকে নিশান্ত কুমারের রাজনৈতিক ভূমিকা ও ব্যক্তিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন কার্যনির্বাহী সভাপতি সঞ্জয় ঝা। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ২১ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও ১৬ বছর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকার পরেও তাঁর পুত্র নিশান্ত অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করে আসছেন। যখনই দল ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে তাঁর প্রয়োজন অনুভূত হয়েছে, তিনি সানন্দে গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। বর্তমানে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে স্বাস্থ্য দফতরে একাধিক যুগান্তকারী সাফল্য এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এমএলসি নির্বাচনের ভরাডুবি সামলে জেডিইউ নেতৃত্ব অভ্যন্তরীণ এই ক্ষোভ এবং নীতীশ-পুত্রকে নিয়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ কীভাবে সামাল দেয়, এখন সেটাই দেখার!