হঠাৎ কমছে জনসংখ্যা, হু হু করে বাড়ছে বৃদ্ধের সংখ্যা! ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মহা-সতর্কবার্তা

একসময় হু হু করে জনসংখ্যা বৃদ্ধিই ছিল ভারতের উন্নয়নের পথে অন্যতম প্রধান বাধা ও জাতীয় উদ্বেগের বিষয়। তা রুখতে তৈরি হয়েছিল কড়া কড়া সরকারি নীতি ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি। কিন্তু তিন দশকের ব্যবধানে ভারত আজ সম্পূর্ণ উল্টো এক সঙ্কটের মুখে। দেশে আশঙ্কাজনক হারে কমছে জন্মহার এবং তর তর করে বাড়ছে প্রবীণ বা বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। ফলে আগামী দিনে কর্মক্ষম তরুণ প্রজন্মের অনুপাতে বড় ধস নামতে পারে বলে মারাত্মক পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আর এই পরিবর্তিত জনসংখ্যা কাঠামোর (Demographic Dynamic) দিকে নজর রেখে ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ দিল দেশের সুপ্রিম কোর্ট।

১. পঞ্চায়েত নির্বাচনে ‘দুই সন্তান নীতি’ পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত

বুধবার মহারাষ্ট্রের এক প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানের দায়ের করা মামলার শুনানিতে বিচারপতি পিএস নরসিংহ ও বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে পুরনো আইনি নীতির সামঞ্জস্য খতিয়ে দেখা জরুরি। ২০০৩ সালের ‘জাভেদ বনাম হরিয়ানা রাজ্য’ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল— পঞ্চায়েত নির্বাচনে দু’টির বেশি সন্তান থাকলে কোনো ব্যক্তি প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে শীর্ষ আদালতের মতে, বিগত দুই দশকে দেশের জনসংখ্যার চরিত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। তাই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ‘দুই সন্তান নীতি’র বা বিধিনিষেধের প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে পর্যালোচনার জন্য মামলাটি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানো হলো।

২. কেন কমছে ভারতের জন্মহার?

সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের মূলে রয়েছে ভারতের দ্রুত হ্রাস পাওয়া মোট প্রজনন হার (Total Fertility Rate বা TFR)।

  • ২০০৩ সালে দেশে মহিলাদের গড় প্রজনন হার ছিল ৩.০২।

  • ২০২৪ সালের স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের পরিসংখ্যানে তা নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.৯-এ।

বিশেষজ্ঞ ও ডেমোগ্রাফারদের মতে, কোনো দেশের জনসংখ্যার স্থিতিশীলতা বা ভারসাম্য বজায় রাখতে রিপ্লেসমেন্ট রেট (Replacement Rate) বা প্রতিস্থাপন হার ২.১ হওয়া আবশ্যক। মহিলাদের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছানো, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গর্ভনিরোধকের বহুল ব্যবহারের ফলেই দেশের জন্মহার এই সীমার নিচে নেমে গেছে।

৩. বয়স্ক জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ও অর্থনীতির ওপর চাপ

জন্মহার কমার সঙ্গে সঙ্গে উন্নত স্বাস্থ্যপরিষেবার কারণে বাড়ছে মানুষের গড় আয়ু। যার জেরে দেশের মোট জনসংখ্যার এক বড় অংশজুড়ে অবস্থান করছেন প্রবীণ নাগরিকেরা।

  • ২০১১ সালে: ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সের মানুষ ছিলেন প্রায় ১০ কোটি (মোট জনসংখ্যার ৮.৪ শতাংশ)।

  • ২০৩৬ সালের সম্ভাবনা: সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২৩ কোটি (১৪.৯ শতাংশ)।

  • অন্যদিকে, ১৫ বছরের কম বয়সিদের অনুপাত ২০১১ সালের ৩০.৯ শতাংশ থেকে কমে ২০৩৬ সালে ২০.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

এতদিন বিপুল তরুণ ও কর্মক্ষম জনসংখ্যাই (Working-age population) ছিল ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল হাতিয়ার। তবে যেভাবে জন্মহার কমছে এবং প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে উৎপাদনশীল কর্মীবাহিনীর ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে অভিজ্ঞ মহল।