আমেরিকার সেনেটে ভারতের জামাই! ইতিহাস গড়া ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সাইয়েদের শ্বশুরবাড়ির ইতিহাস জানলে অবাক হবেন

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সেনেটর নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ড. আবদুল এল-সাইয়েদ। পেশায় চিকিৎসক আবদুল এল-সাইয়েদ আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সেনেটর হিসেবে মার্কিন সংসদের উচ্চকক্ষে প্রবেশ করছেন। তবে এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে তাঁর একটি বিশেষ পারিবারিক পরিচয়— তাঁর স্ত্রী ড. সারা জুকাকুর সুদূর ভারতীয় যোগসূত্র।

১. কর্ণাটকের ভাটকালের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক

ড. আবদুল এল-সাইয়েদের স্ত্রী ড. সারা জুকাকু ভারতীয় বংশোদ্ভূত। দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটকের উপকূলীয় অঞ্চলের উত্তর কন্নড় জেলার সঙ্গে তাঁর পরিবারের ঐতিহাসিক যোগসূত্র অত্যন্ত গভীর। সারার দাদু জুকাকু শামসুদ্দিন ছিলেন ওই অঞ্চলের অন্যতম প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব। তিনিই প্রথম আইনজীবী যিনি কর্ণাটকের ভাটকাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে আসার নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বি ডি জট্টি সরকারের আমলেও তিনি উপমন্ত্রীর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন।

২. রাজনীতি ও শিক্ষার প্রসারে জুকাকু পরিবার

শুধু জুকাকু শামসুদ্দিনই নন, ড. সারা জুকাকুর পরিবারের অন্য সদস্যরাও দক্ষিণ ভারতে সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর পারিবারিক আত্মীয় এস এম ইয়াহিয়া ছিলেন একাধারে আইনজীবী এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৭ এবং ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী দেবরাজ অরসের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব সামলেছিলেন তিনি। কর্ণাটকে প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষার প্রসারে এস এম ইয়াহিয়ার ভূমিকা আজও স্মরণ করা হয়।

৩. ট্রাম্প শিবিরের বড় পরাজয় ও মার্কিন সংসদের চিত্র

পূর্বে কোনো রাজনৈতিক পদে না থেকেও প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েই বিশাল জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন ড. আবদুল এল-সাইয়েদ। নির্বাচনে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে তিনি প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন।

এল-সাইয়েদের এই জয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের পর মার্কিন সংসদের উচ্চকক্ষ সেনেটে বর্তমানে ৫৪ জন ডেমোক্র্যাট এবং ৪৪ জন রিপাবলিকান সদস্য রয়েছেন। অন্যদিকে, নিম্নকক্ষ ‘হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ’ বা প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ২৪০টি আসন দখল করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (প্রয়োজনীয় ২১৮ আসন) অর্জন করেছে।