জীবাণুরাও নাগাল পাবে না! ভারতের এই যুগান্তকারী ‘সুপার অ্যান্টিবায়োটিক’ সারাবে আমেরিকার ছাড়পত্র পাওয়া জটিল রোগ

বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সামনে বর্তমানে অন্যতম প্রধান ও ভয়ের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স’ (Antibiotic Resistance)। যত্রতত্র ও অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে বেশিরভাগ ক্ষতিকর জীবাণু বা ব্যাকটিরিয়া এখন মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট হয়ে উঠছে। যার জেরে চেনা অ্যান্টিবায়োটিক সাধারণ সর্দি-জ্বর, পেটের অসুখ কিংবা জটিল সংক্রমণেও আর কাজ করছে না। চিকিৎসকরাও নাজেহাল, রোগীদের ভোগান্তি চরমে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এক সাম্প্রতিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামিদিনে শুধুমাত্র অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের জেরে প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় চার কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

এমন এক সংকটজনক পরিস্থিতিতে ভারত থেকে এল এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী আবিষ্কার। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই বড় সংকটের মোকাবিলা করতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে এক নতুন ‘সুপার অ্যান্টিবায়োটিক’, যার ধারেকাএও পৌঁছাতে পারেনি কোনো ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট জীবাণু।

কী এই নতুন মহৌষধি এবং কীভাবে তৈরি হলো?

কেন্দ্রীয় সরকারের বায়োটেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্স কাউন্সিলের গবেষকরা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এই শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেছেন। মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটিরিয়াদের নিমেষে ধ্বংস করতে সক্ষম এই ওষুধ তৈরির মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দেশের খ্যাতনামা ফার্মা সংস্থা মুম্বইয়ের ওকহার্টকে (Wockhardt)। তারা সফলভাবেই এই ওষুধ প্রস্তুত করেছে, যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘ZAYNICH’।

সবচেয়ে বড় কথা, ইতিমধ্যেই এই ওষুধ ভারতের ড্রাগ কন্ট্রোল এবং আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (US FDA) কঠোর অনুমোদন ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

কোন কোন রোগে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেপসিস, মেনিনজাইটিস, নিউমোনিয়া এবং জটিল টাইফয়েডের মতো মারাত্মক রোগের চিকিৎসায় এই ওষুধ অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে যাঁদের অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের কারণে মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI) বা কিডনির জটিল সংক্রমণ কিছুতেই সারছিল না, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ নতুন জীবন নিয়ে এসেছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই ওষুধের কার্যকারিতা বা কিওর রেট পাওয়া গেছে প্রায় ৯৭ শতাংশ, যা চিকিৎসকমহলে দারুণ সাড়া ফেলেছে।

দাম কত হবে এবং কবে মিলবে বাজারে?

ওকহার্ট সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের শেষের দিকেই এই ওষুধ বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসায় আমেরিকা বা ইউরোপের ব্যয়ের তুলনায় অত্যন্ত সুলভে, মাত্র দশভাগের একভাগ দামে ভারতীয় বাজারে এই ওষুধ পাওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি থাকা গুরুতর রোগীদের জন্য মাত্র ৩ দিনের কোর্সে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমেই এই ওষুধ প্রয়োগ করা হবে। ভারতের এই মেগা আবিষ্কার আন্তর্জাতিক医药 মহলেও এক নতুন আশার আলো দেখিয়েছে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha