উৎসবের মরশুমে সরকারি কর্মীদের মহা ধামাকা! এক ধাক্কায় দেড় লাখে পৌঁছল ই-বাইকের ঋণ, জারি নবান্নের বিজ্ঞপ্তি!

উৎসবের মরশুমে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় আনন্দের খবর নিয়ে এলো নবান্ন। পেট্রোল-ডিজেলের বাড়তি দাম এবং মূল্যবৃদ্ধির বাজারে বাইক, স্কুটার কিংবা পরিবেশবান্ধব ই-বাইক কেনাকে আরও সহজ করতে সরকারি ঋণের ঊর্ধ্বসীমা এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়াল রাজ্য সরকার। পরিবেশের কথা মাথায় রেখে ই-ভেহিক্যাল (EV) বা ব্যাটারিচালিত গাড়ি কেনায় বাড়তি উৎসাহ দিতেই এই বিশেষ আর্থিক সুবিধার ঘোষণা করেছে অর্থ দপ্তর।
অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পি কে মিশ্রের স্বাক্ষর করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, নয়া এই নিময় অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।
বাইক ও ই-স্কুটার ঋণের হিসাব একনজরে:
নবান্নের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাধারণ বাইক এবং পরিবেশবান্ধব ই-বাইক কেনার ক্ষেত্রে পৃথক ঋণের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে:
সাধারণ পেট্রোলচালিত বাইক/স্কুটার:
প্রথমবার কেনায়: সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত মিলবে ঋণ। (তবে আবেদনকারীর ৫ মাসের মূল বেতন বা গাড়ির দাম—এই দুটির মধ্যে যেটি কম, সেই অর্থই মঞ্জুর হবে)।
দ্বিতীয়বার কেনায়: মিলবে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ।
পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাইক (E-Bike/E-Scooter):
প্রথমবার কেনায়: কর্মীদের জন্য ধার্য হয়েছে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ। (আবেদনকারীর ৬ মাসের মূল বেতন বা গাড়ির দাম—যেটি কম হবে, সেই টাকাই অনুমোদিত হবে)।
দ্বিতীয়বার কেনায়: সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ থাকছে।
কারা পাবেন এই সুবিধা? জানুন যোগ্যতা ও পরিশোধের নিয়ম
অর্থ দপ্তর স্পষ্ট করে জানিয়েছে, রোপা ২০১৯ (ROPA 2019) অনুযায়ী যেসব কর্মচারীর মূল বেতন (Basic Pay) ন্যূনতম ২৫,৭০০ টাকা বা তার বেশি, কেবল তাঁরাই এই দুই চাকা কেনার সরকারি ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
সহজ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ:
আসল টাকা: মূল ঋণের টাকা সর্বোচ্চ ৬০টি মাসিক কিস্তিতে সরাসরি বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে।
সুদের টাকা: আসল শোধ হওয়ার পর সুদের অর্থ পরবর্তীতে সর্বোচ্চ ২০টি কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে।
শর্তাবলিনী: একবার ঋণ নিয়ে তার আসল ও সুদ সম্পূর্ণ পরিশোধ করার পর অন্তত ৩ বছরের বিরতি না গেলে দ্বিতীয়বার আর কোনো ঋণের আবেদন করা যাবে না।
(বি.দ্র: কিস্তি পরিশোধে গাফিলতি হলে ৮ শতাংশ হারে চক্রবৃদ্ধি চক্রে জরিমানামূলক জরিমানা-সুদ চাপানো হতে পারে।)
কমল প্রশাসনিক জটিলতা, দ্রুত ঝুলিতে আসবে টাকা!
আগে বাইক কেনার ঋণের ফাইল এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরতে ঘুরতে অর্থ দপ্তরে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় নষ্ট হতো। কর্মচারীদের সেই ভোগান্তি দূর করতে এবার প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতায় বড়সড় বদল আনল রাজ্য।
নবান্ন সূত্রের খবর, এখন আর অর্থ দপ্তরের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে না। সংশ্লিষ্ট নিজ নিজ প্রশাসনিক দপ্তরকেই সরাসরি এই ঋণ মঞ্জুর করার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফলে আবেদন জমা পড়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কর্মীদের হাতে পৌঁছে যাবে গাড়ি কেনার টাকা।
নবান্নের এই সময়োপযোগী ও কল্যাণমুখী সিদ্ধান্তে যারপরনাই খুশি রাজ্য প্রশাসনের নিচুতলার কর্মচারী ও সাধারণ আধিকারিকরা।