এসএসকেএম-এর আইসিইউ-তে লড়ছেন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে! প্রোমোটারের ওপর অতর্কিত রক্তক্ষয়ী হামলায় থমথমে হরিদেবপুর!

উৎসবের মরশুম ও শীতের আমেজের মাঝেই দক্ষিণ কলকাতার হরিদেবপুরে ঘটা এক নৃশংস অপরাধমূলক ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দোকানের ভেতর পেশায় এক প্রোমোটারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেটে ঘাতক আঘাত করার অভিযোগ উঠল। গুরুতর জখম অবস্থায় প্রদীপ মণ্ডল (৪৫) নামে ওই ব্যক্তি বর্তমানে কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। এই ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ করে গোপাল দাস নামক এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।
কীভাবে প্রকাশ্যে এল এই হামলার ঘটনা?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিদেবপুর থানার অন্তর্গত উদয়াচল-রামকান্তপুর এলাকায় প্রদীপ মণ্ডলের নিজস্ব একটি দোকান রয়েছে। পেশাগতভাবে তিনি রিয়েল এস্টেট প্রোমোটারিংয়ের পাশাপাশি বিল্ডিংয়ের নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
পরিবারের সদস্যদের বয়ান অনুযায়ী, গত কাল গভীর রাতে প্রদীপের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দীর্ঘক্ষণ তাঁর কোনো সাড়া না মেলায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। তাঁরা উদ্বিগ্ন হয়ে খুঁজতে খুঁজতে প্রদীপের দোকানে এসে পৌঁছান। দোকানের শাটার খুলতেই তাঁরা দেখতে পান, রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে রয়েছেন প্রদীপবাবু।
হাসপাতালে স্থানান্তরিত, শুরু পুলিশের তদন্ত
পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে এম.আর. বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে তাঁর পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত গভীর থাকায় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হরিদেবপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনার নেপথ্যে ব্যবসায়িক শত্রুতা, পুরনো কোনো প্রোমোটারিং গোলমাল, নাকি ব্যক্তিগত রেষারেষি রয়েছে—তা খতিয়ে দেখতে গোপাল দাস নামে ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এই বর্বরোচিত হামলায় আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা জানতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।