“উত্তর শোনার ক্ষমতা আছে তো?” সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদীকে বিতর্কের ডাক রাহুলের, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে চরম জবাব নির্মলার!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় খোলা বিতর্কের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কিন্তু সেই আমন্ত্রণের পাল্টা জবাব দিয়ে চরম আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। রাহুলের এই পদক্ষেপকে তীব্র তাচ্ছিল্য করে অর্থমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন—সোশ্যাল মিডিয়ায় বাহাদুরি না দেখিয়ে বিতর্কের একমাত্র সঠিক জায়গা অর্থাৎ ভারতীয় সংসদে এসে মুখোমুখি আলোচনা করা উচিত।
রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ও উত্তপ্ত রাজনীতি
ঘটনার সূত্রপাত গত ১ নভেম্বর, দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের একটি বিশাল সমাবেশ থেকে। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
এই সমাবেশের পর থেকেই বিজেপি ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাক্যবাণ তুঙ্গে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিরোধীদের এই অবস্থানকে ‘দেশদ্রোহী’ আচরণ বলে তকমা দেন। এর পাল্টায় রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট লিখে কে আসল দেশদ্রোহী, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে যে কোনও স্থানে মুখোমুখি বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানান। বিজেপি শিবির থেকে অভিযোগ তোলা হয়, কেন্দ্র বিরোধী এই ধরনের আন্দোলন ও মন্তব্যের পেছনে রাহুল গান্ধী বিদেশী মদত পাচ্ছেন।
রাহুলকে খোঁচা দিয়ে কী লিখলেন নির্মলা সীতারামন?
এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে রাহুল গান্ধীকে ট্যাগ করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় একটি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন:
“রাহুলজি, আপনি প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কের স্থান বেছে নিতে বলছেন। অথচ বিতর্কের জন্য ইতিমধ্যেই একটি নির্ধারিত জায়গা রয়েছে, আর তা হলো দেশের সংসদ—যেখানে আপনি নিজেই বিরোধী দলনেতা! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ ইভিএম (EVM) এবং এসআইআর (SIR) নিয়ে বিশেষ আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো একই উৎসাহ আপনি সংসদীয় বিতর্কে দেখান না কেন?”
নির্মলা সীতারামন আরও যোগ করেন, “উত্তর দাবি করার সাথে সাথে সেই উত্তর শোনার মানসিকতা ও দায়বদ্ধতাও থাকা প্রয়োজন।”
সংসদ ত্যাগ ও ‘মক পার্লামেন্ট’ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ
বিরোধী শিবিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অর্থমন্ত্রী লেখেন, যখনই সরকার পক্ষ বিরোধী অভিযোগের উত্তর দিতে চায়, তখনই রাহুল গান্ধী এবং তাঁর দল সংসদ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করে চলে যান। এছাড়া পুরো অধিবেশন পণ্ড করার জন্য বিরোধী দলগুলির হট্টগোলকেই দায়ী করেন তিনি।
কংগ্রেস সভাপতির বাসভবনে সাম্প্রতিক সময়ে আয়োজিত ‘মক পার্লামেন্ট’ বা ছদ্ম-সংসদ কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করে নির্মলা বলেন, “সম্প্রতি কংগ্রেস সভাপতির বাসভবনে যে ছদ্ম-সংসদের আয়োজন করা হয়েছিল, তা আসলে ‘সংসদের অবমাননা’ ছাড়া আর কিছুই নয়। আসল সংসদের জন্য আপনাদের হাতে সময় বা উৎসাহ কোনোটাই থাকে না।”
এক নজরে নির্মলা সীতারামনের মূল বক্তব্যসমূহ:
উপসংহার: রাহুল গান্ধীর “ডরো মত” (ভয় পেও না) স্লোগানটিকে টেনে এনে নির্মলা সীতারামন শেষে লেখেন, “আপনার যদি ভয় না থাকে, তবে সঠিক তথ্য-প্রমাণ সামনে আনুন, সরকারের প্রশ্নের মুখোমুখি হন এবং উত্তর শোনার জন্য সংসদে উপস্থিত থাকুন।” কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর এই পাল্টা আক্রমণের পর জাতীয় রাজনীতিতে ইভিএম এবং সংসদীয় বিতর্ক নিয়ে উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল।