দাম কমলেও মিলছে না ক্রেতা! ধনতেরাসের মুখে কেন মাথায় হাত স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের?

বাঙালি উৎসবের মরশুমে কেনাকাটার মেজাজে থাকলেও, মাথায় হাত ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের অন্তর্গত শ্যামনগর সোনাপট্টির ব্যবসায়ীদের। সামনেই ধনতেরাস। প্রচলিত নিয়ম মেনে এই সময়ে সোনা ও রুপোর গয়না বা জিনিস কেনার ধূম পড়ে যায় সর্বত্র। চলতি বছরে ধনতেরাসের ঠিক আগেই সোনার দামে বড়সড় পতন মধ্যবিত্তের জন্য স্বস্তির বার্তা আনলেও, ব্যবসায়ী এবং স্বর্ণশিল্পীদের মুখে কিন্তু হাসি ফোটাতে পারেনি।
সম্প্রতি মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) সোনার ফিউচার প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। যদিও বুধবার ২২ ক্যারেটের ১০ গ্রাম সোনার দাম সামান্য বেড়েছে (প্রতি ১০ গ্রামে ৫১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১,৩৯,৯৬২ টাকা), তবুও সামগ্রিকভাবে আগের তুলনায় সোনার দাম এখন কিছুটা নাগালের মধ্যেই রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও দোকানে দোকানে গয়না কেনার জন্য যে ভিড় থাকার কথা ছিল, তার দেখা মিলছে না।
ফাঁকা দোকান, মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের
দুর্গাপুজো এবং লক্ষ্মীপুজো শেষ হওয়ার পর থেকেই ধনতেরাসের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। তবে শ্যামনগরের ঐতিহ্যবাহী সোনাপট্টিতে গিয়ে দেখা গেল একেবারে উল্টো ছবি—দোকানগুলো প্রায় ক্রেতাশূন্য।
ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার প্রভাব এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পূর্ববর্তী এক ঘোষণার কারণে সোনার চাহিদায় ধাক্কা লেগেছে। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আর্থিক টানাপোড়েনও গয়না বিক্রিতে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোনার দামে ঘনঘন তারতম্যের কারণে বিভ্রান্ত গ্রাহকরাও সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।
অফারের বন্যা ও হালকা গয়নাতেও ফিরছে না ভাগ্য
ক্রেতাদের দোকানে ফেরাতে নানা কৌশল নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। শ্যামনগরের সোনাপট্টির ব্যবসায়ী শম্ভুনাথ পাল জানান, “বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন গয়না কারিগরেরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা মেকিং চার্জে বিশেষ ছাড় এবং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কম বাজেটের লাইট-ওয়েট (হালকা) গয়না তৈরি করছি। কিন্তু তাও প্রত্যাশিত বিক্রি হচ্ছে না।”
আরেক ব্যবসায়ী রামু পালের মতে, বাজারে মন্দা এতটাই স্পষ্ট যে দাম কমলেও ক্রেতার দেখা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। তবে ধনতেরাসের মূল দিনে বিক্রি কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা রাখছেন তাঁরা।
সরকারের দিকে তাকিয়ে স্বর্ণশিল্পীরা
সোনার বাজারের এমন টালমাটাল অবস্থায় সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় স্বর্ণশিল্পীরা। স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুনীল সরকার বলেন, “সোনার বাজার দর যতক্ষণ না স্থির হচ্ছে, এই অস্থিরতা কাটবে না। কেন্দ্র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দিয়েছিল। আমরা আশা করছি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার দ্রুত স্বর্ণশিল্পকে বাঁচাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।”
সব মিলিয়ে, অফারের ডালি সাজিয়ে এবং হালকা গয়নার পশরা নিয়ে ধনতেরাসের দিনটির দিকেই এখন চাতক পাখির মতো তাকিয়ে শ্যামনগরের সোনাপট্টি।