বিমানে ২০ হাজার টাকা ভাড়া, মেলেনি ট্রেনের টিকিট! দিল্লির আন্দোলনে না যাওয়ায় যুব কংগ্রেসে রক্তক্ষয়!

রামলীলা ময়দানে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকার জেরে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ যুব কংগ্রেসে এক নজিরবিহীন সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিল হাইকমান্ড। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ৬ জন জেলা সভাপতিসহ একযোগে ২৬ জন পদাধিকারীকে এক রাতেই সাসপেন্ড করল সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেস নেতৃত্ব। তবে এই সিদ্ধান্তের পরেই তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়েছে দলের অন্দরে। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে দলের পুরনো কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা রোহন মিত্র।
কাদের ঘাড়ে পড়ল ছাঁটাইয়ের কোপ?
গত ৩ নভেম্বর রাতারাতি জারি হওয়া সাসপেনশন অর্ডারে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর থাকবে। হাইকমান্ডের প্রকাশিত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ জেলার যুব কংগ্রেস সভাপতিকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে:
সুকমল বর্মন (কোচবিহার)
নবীনেন্দু মৌলিক (জলপাইগুড়ি)
মামুন রেজা (উত্তর দিনাজপুর)
মিঠুন সরকার (পূর্ব বর্ধমান)
অভিষেক গুপ্ত (উত্তর কলকাতা)
ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল (দক্ষিণ কলকাতা)
ছাঁটাইয়ের কোপ থেকে বাদ যাননি রাজ্য যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি বাবুল এসকে, সাধারণ সম্পাদক কুণালকান্তি চৌধুরী, তারিক আনোয়ার শেখ, সুভার্থী চক্রবর্তী, মৌ মণ্ডল এবং বেশ কয়েকজন সম্পাদকও। নির্দেশে সই করেছেন সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেসের জাতীয় সম্পাদক তথা রাজ্য পর্যবেক্ষক এহসান আহমেদ খান এবং প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি সৌরভ প্রসাদ।
“বিমান ভাড়া ২৫ হাজার, মিলেনি টিকিট!” ক্ষোভে ফুঁসছেন রোহন মিত্র
একযোগে ২৬ জন গুরুত্বপূর্ণ নেতার বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পর প্রদেশ কংগ্রেস নেতা রোহন মিত্র সরাসরি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। দলের সুবিধাবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “উৎসবের মরশুমে কলকাতা থেকে দিল্লির ট্রেনের টিকিট পাওয়া অসম্ভব ছিল। আর বিমানে যাওয়া-আসার খরচ ২৫ হাজার টাকা। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা একটা ছেলের পক্ষে দু-তিন দিনে এত টাকা যোগাড় করে দিল্লি যাওয়া কীভাবে সম্ভব?”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “যাঁরা তৃণমূলের বাধার মুখে দাঁড়িয়েও রক্ত ও ঘাম দিয়ে দলকে ধরে রেখেছেন, তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ না জেনে এভাবে ঢালাও সাসপেন্ড করা অনুচিত। অন্যের থেকে টাকা চেয়ে দিল্লি গেলে ভবিষ্যতে সেই সাহায্যের প্রতিদান দেওয়ার অলিখিত চাপ তৈরি হয়, যা সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীর কাছে অস্বস্তিকর।”
পুরনো বনাম নতুন দ্বন্দ্ব! ভাঙছে কর্মীদের মনোবল
সংগঠনে সাম্প্রতিক অনুপ্রবেশ নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন রোহন। তাঁর দাবি, তৃণমূল থেকে আসা নতুনদের সঙ্গে এতদিন ধরে মার খেয়ে সংগঠন ধরে রাখা পুরনো কর্মীদের একই মাপকাঠিতে বিচার করা যায় না। তিনি বলেন, “কঠিন সময়ে যাঁরা রাহুল গান্ধীর আদর্শের ওপর ভরসা রেখে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর বদলে এমন শাস্তি দিলে তরুণ কর্মীদের মনোবল ভেঙে যাবে।”
দিল্লির রামলীলা ময়দানের ইস্যুতে যুব কংগ্রেসের এই কড়া পদক্ষেপের পর রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। একদিকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘শৃঙ্খলার পাঠ’, আর অন্যদিকে রাজ্য নেতাদের ক্ষোভ—এই টানাপোড়েনে কংগ্রেস হাইকমান্ড তাদের কড়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক শিবিরের।