বাবার পিঠের ব্যথা আর মায়ের ওঠানামার কষ্ট শেষ! পরিবারের বয়স্কদের জন্য দেশের সেরা ৫ বাইক

পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের বাইকের পেছনে বসিয়ে যাতায়াত করার অনুভূতি আলাদা হলেও, তার জন্য দরকার বিশেষ সতর্কতা। ভাঙাচোরা রাস্তা, আচমকা স্পিড ব্রেকার কিংবা দীর্ঘ যাত্রায় পেছনের যাত্রীর পিঠে ব্যথা হওয়া খুব সাধারণ বিষয়। বিশেষ করে সিট অতিরিক্ত উঁচু বা শক্ত হলে এবং বাইকের ওজন বেশি থাকলে বয়স্কদের ওঠানামা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই পরিবারের মানুষ, বিশেষ করে পেছনের পিলিয়ন রাইডারের আরাম নিশ্চিত করতে চওড়া সিট, হাতের কাছে গ্র্যাব রেইল, উপযুক্ত উচ্চতা এবং উন্নত মানের সাসপেনশনযুক্ত বাইক বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক বাবা-মাকে নিয়ে আরামে যাতায়াতের জন্য ভারতের সেরা ৫টি বাইক সম্পর্কে।

১. হন্ডা ইউনিকর্ন (Honda Unicorn):
ডেইলি কমিউটিংয়ের জন্য এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি বাইক। এর লম্বা ও চওড়া সিঙ্গেল-পিস সিটে রয়েছে চমৎকার কুশনিং। এর সাসপেনশন রাস্তার ছোট-বড় খানাখন্দের ঝাঁকুনি খুব সহজেই সামলে নেয়, যা পেছনের যাত্রীকে দেয় এক মসৃণ যাত্রার অভিজ্ঞতা। এক্স-শোরুম দাম প্রায় ১.১৫ লক্ষ টাকা।

২. টিভিএস রোনিন (TVS Ronin):
রিফাইন্ড ইঞ্জিন ও কাঁপুনিহীন রাইডিং পজিশনের জন্য এটি সেরা। কম স্পিডেও বাইকটি দারুণ ব্যালেন্স ধরে রাখে। বয়স্ক বাবা-মায়ের বাড়তি আরামের জন্য এতে আলাদা অ্যাক্সেসরি হিসেবে ‘ব্যাকরেস্ট’ লাগানোর সুযোগ রয়েছে। এর এক্স-শোরুম দাম শুরু ১.৩০ লক্ষ টাকা থেকে।

৩. রয়্যাল এনফিল্ড বুলেট ৩৫০ (Royal Enfield Bullet 350):
সোজা হয়ে বসার আরামদায়ক পজিশন এবং মাঝারি সিটের উচ্চতার কারণে বয়স্করা সহজেই এতে ওঠানামা করতে পারেন। ভারী এই বাইকটি রাস্তায় দুর্দান্ত স্টেবিলিটি দেয়। তবে অতিরিক্ত ট্রাফিকে চালককে এর ওজন সামলানোর বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এর এক্স-শোরুম দাম শুরু ১.৬৭ লক্ষ টাকা থেকে।

৪. হন্ডা হাইনেস সিবি৩৫০ (Honda H’ness CB350):
যারা একদম কাঁপুনিহীন এবং শান্ত রাইড পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটি আদর্শ। এর অতি-মসৃণ ইঞ্জিন ও দুর্দান্ত সাসপেনশন খারাপ রাস্তাতেও পেছনের যাত্রীকে কোনো ক্লান্তি আসতে দেয় না। এর চওড়া সিট বয়স্কদের জন্য দারুণ আরামদায়ক। এর এক্স-শোরুম দাম শুরু ১.৯৩ লক্ষ টাকা থেকে।

৫. জাওয়া ৪২ এফজে (Jawa 42 FJ):
মডার্ন-ক্লাসিক লুকের এই বাইকটিতে সোজা হয়ে বসার সুবিধা রয়েছে। তবে বয়স্কদের পেছনে বসানোর ক্ষেত্রে পেছনে একটি আফটার-মার্কেট ব্যাকরেস্ট লাগিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এর পেছনের সাসপেনশন কিছুটা নরমাল বা সফট সেটিংয়ে টিউন করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এর এক্স-শোরুম দাম প্রায় ২.১৫ লক্ষ টাকা।

বাইক কেনার পূর্বে বাবা-মাকে সাথে নিয়ে টেস্ট রাইড দেওয়া এবং চালক ও পেছনের যাত্রী দুজনের জন্যই সঠিক মাপের হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক।