পান চাষে সোনা ফলাবেন কৃষকরা! খরচ কমাতে মিলছে দারুণ সরকারি ভর্তুকি, জানুন আবেদনের পদ্ধতি

হাওড়া জেলার পান চাষিদের মুখে হাসি ফোটাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে জেলার কৃষকরা পান চাষ করতে গিয়ে নানা ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং শ্রমিকের তীব্র অভাব চাষিদের পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে। এতদিন ধরে পান চাষের জন্য যে ঐতিহ্যবাহী বরজ তৈরি করা হতো, তা বাঁশ, খড়, খড়ি ও পাটকাঠি দিয়ে বানানো হতো। এই সমস্ত প্রাচীন পদ্ধতিতে বরজ তৈরি করতে প্রচুর অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, যা বর্তমান দিনে কৃষকদের পক্ষে বহন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পান চাষিদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে হাওড়া জেলা উদ্যানপালন দফতর। আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত প্রযুক্তির প্রয়োগ করে চাষের খরচ কমানো এবং ফলন বহুগুণ সুরক্ষিত করার উদ্দেশ্যে কৃষকদের নতুন এই বিশেষ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুরোনো পদ্ধতিতে তৈরি বরজের অন্যতম বড় সমস্যা হলো প্রতি বছর তার মেরামতের ঝামেলা এবং বিপুল পরিমাণ শ্রম খরচ। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য উদ্যানপালন দফতরের পক্ষ থেকে আধুনিক উপায়ে ‘শেডনেট’ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শেডনেট ব্যবহারের ফলে প্রখর রোদ এবং অতিরিক্ত বা অতিবৃষ্টির হাত থেকে পান বরজগুলো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে। এমনকি ভারী বৃষ্টির সময় জলের ফোঁটা সরাসরি বরজে আঘাত না করে ঝিরঝিরে আকারে গাছের ওপর পড়ে, যা পানের পাতার গুণগত মান বজায় রাখতে সাহায্য করে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই আধুনিক শেডনেট তৈরি করতে কৃষকদের কোনো বিশেষ ঝামেলা পোহাতে হয় না। উদ্যানপালন দফতরের পক্ষ থেকে এই আধুনিক পরিকাঠামো তৈরির জন্য প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আকর্ষণীয় সরকারি ভর্তুকি প্রদান করা হচ্ছে। এমনকি যেকোনো স্বল্প পরিমাণ জমিতেও চাষিরা অত্যন্ত সহজে এই আধুনিক পদ্ধতিতে পান চাষ করতে পারবেন।
সরকারি এই কল্যাণমুখী প্রকল্পের সুবিধা পেতে ইচ্ছুক চাষিদের সুনির্দিষ্ট আবেদনপত্র পূরণ করে সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দিতে হবে। দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি এই আর্থিক সহায়তা এবং ভর্তুকি পেতে হলে জমির পর্চা, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং ব্যাংক পাসবুকের প্রথম পাতার জেরক্স কপি জমা দিয়ে আবেদন করতে হয়। শুধু আর্থিক সহায়তা প্রদানই নয়, আধুনিক বরজ তৈরির পর পানের নানা রোগ বা অন্যান্য সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রেও কৃষি দফতর, বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী এবং কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের (KVK) আধিকারিকরা নিয়মিতভাবে চাষিদের পাশে থেকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং সরকারি সহায়তার সুষম ব্যবহারের মাধ্যমে হাওড়ার পান চাষকে আরও অধিক লাভজনক ও সুরক্ষিত করে তুলতে উদ্যানপালন দফতর সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে।