সীমানা ডিঙিয়ে অসমে তাণ্ডব! উদ্ধার বক্সার বাঘিনি, ফিরছে নিজস্ব ডেরায়

অসমের লোকালয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করা সেই বক্সার বাঘিনিকে অবশেষে ট্র্যাঙ্কুলাইজ় বা ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে কাবু করল বন দফতর। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ১৪ মিনিট নাগাদ তাকে সফলভাবে বাগে আনা সম্ভব হয়। উদ্ধার পর্ব শেষ হতেই একটি বিশেষ ‘ঐরাবত’ গাড়িতে চাপিয়ে গ্রিন করিডরের মাধ্যমে বাঘিনিকে পুনরায় পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ন্যাশনাল টাইগার কনজ়ারভেশন অথরিটি (NTCA)-র কাছ থেকে সবুজ সংকেত মেলার পরপরই সোমবার থেকে এই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছিল।
বিহার থেকে বক্সা, তারপর সীমান্ত পার
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ অক্টোবর বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে এই বাঘিনিকে এনে আলিপুরদুয়ারের বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। কিন্তু মুক্তির কয়েক দিনের মধ্যেই, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে বাঘিনিটি বক্সার সীমানা ছাড়িয়ে পাশের রাজ্য অসমের রায়মোনা টাইগার রিজার্ভ সংলগ্ন এলাকায় ঢুকে পড়ে।
কেন তাড়াহুড়ো করে ফেরানোর সিদ্ধান্ত?
প্রাথমিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের বন দফতর বাঘিনিটিকে জোর করে ফিরিয়ে না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই বাঘিনিটি অসমের রাজেন্দ্রপুর ও নারায়ণপুরের মতো ঘন জনবসতিপূর্ণ বনবস্তি এলাকায় ঘোরাফেরা শুরু করে এবং গবাদিপশু শিকার করতে থাকে।
মানুষ ও বন্যপ্রাণী— উভয়ের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই দ্রুত পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং বাঘিনিটিকে নিরাপদে তার নিজস্ব বাসস্থানে ফেরাতে ঘুমপাড়ানি গুলি করে কাবু করার সিদ্ধান্ত নেন বনাধিকারিকরা।
সব পরিকল্পনা সফল হওয়ায় বড়সড় বিপদের হাত থেকে বাঁচলেন অসমে সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দারা। এখন পুরো নজর রয়েছে গ্রিন করিডরের মাধ্যমে বাঘিনিটিকে নিরাপদে বক্সায় পৌঁছানোর ওপর।