‘শাহজাহান-জাহাঙ্গিরও রেহাই পায়নি!’ নাম না করে কাকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী?

“আরে ভাই ভাইপো ভাইপো করছেন কেন? সময় হয়নি, সময় হয়নি! যখন সময় হবে, তখন দেখে নেবেন, দেখে নেবেন। এই সরকার শাহজাহানকেও ছাড়েনি, পুষ্পা যে জাহাঙ্গির, তাকেও ছাড়েনি।”— উত্তরবঙ্গে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ মহামিছিল শেষে জনসভায় দাঁড়িয়ে ঠিক এভাবেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা বদল ও একাধিক তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যেও অভিষেকের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মনে যে ক্ষোভ ও প্রত্যাশা রয়েছে, শুভেন্দু তাঁর বক্তব্যে সেই বার্তাই তুলে ধরতে চেয়েছেন। নাম না নিলেও তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট— সঠিক সময়েই আইনি পদক্ষেপের মুখ দেখতে হবে বিরোধীদের।

পুরভোটে জয়ের আত্মবিশ্বাস

এদিনের সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরপর তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেছে বিজেপি। ফলতা, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সেই ফলাফলের ধারা অব্যাহত থাকবে আগামী দিনের কলকাতা, হাওড়া এবং শিলিগুড়ি পুরসভার নির্বাচনেও।

বিরোধীদের তোপ ও মোদী-স্তুতি

জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে এনে তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লির বিরোধীরা ভারতের অভ্যন্তরে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। মাওবাদী ও অতি-বামপন্থী আদর্শের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি মানুষকে এসব থেকে সতর্ক رہنےর পরামর্শ দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যতদিন নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব রয়েছে, ততদিন ভারতের ভিত নাড়ানো সম্ভব নয়।”

একই সঙ্গে বৈশ্বিক ও জাতীয় স্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে শুভেন্দু স্মরণ করিয়ে দেন করোনা মহামারীর সময় ভারতীয় টিকার সাফল্য এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে মোদীর কূটনৈতিক পদক্ষেপের কথা। তাঁর দাবি, মোদীর হস্তক্ষেপেই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছিল এবং নিরাপদে দেশে ফিরেছিলেন ভারতীয় ছাত্রছাত্রীরা।

উত্তরবঙ্গের এই মহামিছিল ও শুভেন্দুর কড়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।