গরু পাচারের সন্দেহে গাড়ি জব্দ করলেই মাসে মিলবে ২৫ হাজার টাকা! এলাহাবাদ হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে শোরগোল

গরু পাচারের অভিযোগে গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা নিয়ে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। শুধুমাত্র অনুমান ও সন্দেহের বশে গাড়ি আটক বা বাজেয়াপ্ত করা বেআইনি— স্পষ্ট জানিয়ে দিল আদালত। মির্জাপুরে একটি বোলেরো পিকআপ ট্রাক অবৈধভাবে বাজেয়াপ্ত করার প্রশাসনিক নির্দেশ খারিজ করে দেওয়ার পাশাপাশি, গাড়ির মালিককে প্রতি মাসে ২৫,০০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য উত্তর প্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ বিচারপীঠ।
কী ছিল মূল ঘটনা ও আইনি লড়াই? ‘নেসার শাহ বনাম উত্তর প্রদেশ রাজ্য ও অন্যান্য’ মামলার শুনানিতে উঠে আসে যে, গরু পাচারের যোগসূত্র থাকার সন্দেহে মির্জাপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিন্ধ্যাচল বিভাগীয় কমিশনার একটি বোলেরো পিকআপ গাড়ি জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন গাড়ির মালিক নেসার শাহ।
মামলাটির শুনানিতে এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি সন্দীপ জৈনের একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও বিভাগীয় কমিশনারের গাড়ি জব্দের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসংগত।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ: বিচারপতি সন্দীপ জৈন তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, শুধু অনুমান ও সন্দেহের ওপর ভর করে কারও ব্যক্তিমালিকানাধীন যানবাহন বাজেয়াপ্ত করা যায় না। গাড়ি আটকের জন্য সুনির্দিষ্ট নথিপত্র, অকাট্য প্রমাণ এবং আইনে নির্ধারিত কঠোর শর্ত পূরণ করা আবশ্যিক।
হাইকোর্ট অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করা বোলেরো পিকআপ গাড়িটি মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর পাশাপাশি, গাড়িটি এতদিন অবৈধভাবে আটকে রাখার জন্য গাড়ির প্রকৃত মালিককে প্রতি মাসে ২৫,০০০ টাকা হারে ভাড়া বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে।
উত্তর প্রদেশে যেখানে গবাদি পশু পাচার রোধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেখানে আদালতের এই কড়া অবস্থান এবং ক্ষতিপূরণের নির্দেশ রাজ্য প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিল বলেই মনে করছে অভিজ্ঞ আইনি মহল।