ধনতেরাসের আগেই একধাক্কায় হুহু করে কমল সোনা-রুপোর দাম! এখনই কেনা বুদ্ধিমানের কাজ নাকি দর আরও কমবে?

ধনতেরাসের কেনাকাটা শুরুর ঠিক আগেই মধ্যবিত্ত ও ক্রেতাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। উৎসবের মরশুমে আচমকাই সোনা ও রুপোর দামে দেখা গেল বড়সড় পতন। তবে বাজারে দামের এই তাৎক্ষণিক সংশোধনের মানেই যে মূল্যানবান ধাতুগুলির দর আরও কমবে কিংবা ভবিষ্যতে আর বাড়বে না, তেমনটা ধরে নেওয়া ভুল হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, সুদের হার, মার্কিন ডলারের শক্তি এবং রূপির মূল্য—সবকিছুর ওপর নির্ভর করছে সোনা-রুপোর আগামী দিনের গতিপথ। তাই আগামী ৬ নভেম্বর ধনতেরাসে গয়না, কয়েন নাকি ডিজিটাল সোনায় বিনিয়োগ করবেন, তা নিয়ে জোর অংক কষছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ধাক্কায় ৩ শতাংশ কমল রুপোর দাম ৩ নভেম্বর মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) রুপোর দামে বড় পতন দেখা যায়। প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত দর পড়ে যায় রুপোর। ফলে প্রতি কেজিতে দর প্রায় ৫,১৫৫ টাকা কমে বেলা ১১টা ৫০ মিনিট নাগাদ রুপোর ফিউচার প্রাইস দাঁড়ায় ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬২৪ টাকায়। এর আগে অক্টোবর মাসেও বাজারে বড় ধরনের দর সংশোধন দেখা গিয়েছিল, যেখানে রুপোর দর প্রায় ২০ শতাংশ এবং সোনার দর প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত নেমে এসেছিল।
একদিনের দরপতন দেখে সিদ্ধান্ত নয়! সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা বিবাহের মরশুম, উপহার কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের কথা ভেবে যাঁরা সোনা কিনতে চান, তাঁদের কাছে দাম কমার এই পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে একটি বড় সুযোগ। তবে কেবল একদিনের পতন দেখেই তাড়াহুড়ো করে কেনাকাটায় ঝাঁপিয়ে না পড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
ক্রিপ্টো ও আর্থিক প্ল্যাটফর্ম ‘গিওটাস’-এর প্রধান বিক্রম সুব্বুরাজের মতে, ভারতীয় বাজারে সোনা-রুপোর দাম অনেকাংশেই আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময়মূল্যের ওপর নির্ভর করে। তাই বাজারের ট্রেন্ড পুরোপুরি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত একসঙ্গে সব টাকা ঢেলে না দিয়ে, কিছুটা সময় নিয়ে ধাপে ধাপে (SIP আকারে বা কিস্তিতে) সোনা বা রুপো কেনা উচিত। এতে দামের আকস্মিক ওঠানামার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ধনতেরাসের মুখে যদি বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকে, তবে গহনা কেনার পাশাপাশি মেকিং চার্জ বাঁচিয়ে গোল্ড ইটিএফ, ডিজিটাল গোল্ড কিংবা গোল্ড কয়েনও এক চমৎকার বিকল্প হতে পারে।