স্কুলের খালি ক্লাসরুমে নারকীয় তাণ্ডব! শিশুটির কাকা ফাঁস করলেন হিংস্রতার আসল কারণ, চরম কড়া পদক্ষেপ সরকারের

স্কুলের খালি ক্লাসরুমে ৬ বছরের এক ছোট্ট শিশুর ওপর সহপাঠীর বর্বরোচিত ও নৃশংস অত্যাচারের ঘটনায় স্তম্ভিত পুরো দেশ। হরিয়ানার পঞ্চকুলার (Panchkula Assault) ‘সংস্কৃতি মডেল স্কুলে’ ঘটা এই নারকীয় তাণ্ডবের পেছনে অনলাইন গেমের মারাত্মক আসক্তি কাজ করেছে বলে দাবি করল আক্রান্ত শিশুর পরিবার।
মঙ্গলবার আক্রান্ত শিশুটির কাকা ফাজিল অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে জানান, অভিযুক্ত তৃতীয় শ্রেণীর বালকটি নিয়মিত ‘পাবজি’ (PUBG)-র মতো চরম হিংসাত্মক ও আগ্রাসী অনলাইন গেমে ডুবে থাকত। এমনকি অভিযুক্ত শিশুর বাবাও তার এই মারাত্মক গেম আসক্তির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন ফাজিল। গেমের হিংস্রতাই যে নাবালকের মানসিকতায় এত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তা পরিবারের দাবিতে স্পষ্ট।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই ভয়ঙ্কর দিনে? গত ২৮ অক্টোবর পঞ্চকুলার ওই স্কুলে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজে সেই নারকীয় দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছেন সকলে। ভিডিওতে দেখা যায়, ৮ বছরের ওই বালকটি ৬ বছরের ছোট্ট শিশুটিকে জোর করে টেনে একটি খালি ক্লাসরুমে নিয়ে যায়। এরপর তার মাথা দুটি বেঞ্চের সঙ্গে সজোরে ঠুকে মাটিতে ফেলে দেয়। শিশুটি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শুরু হয় এলোপাথাড়ি লাথি ও চড়।
হিংস্রতার এখানেই শেষ নয়! এরপর ক্লাসরুমে থাকা ভারী পাথর এবং ফুলের টব দিয়ে শিশুটির মাথায় ও শরীরে বারবার আঘাত করে মাথা থেঁতলে দেওয়ার চেষ্টা করে সে। রক্তে ভেসে গিয়ে শিশুটি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লেও উন্মত্ত নাবালক তাকে মেঝেময় টেনে-হিঁচড়ে নির্যাতন চালাতে থাকে। প্রায় দেড় মিনিট ধরে চলা এই চরম অমানুষিক নির্যাতনের পর সে নিথর শিশুটিকে ফেলে রেখে ঘরে তালা দিয়ে চম্পট দেয়। পরিবারের দাবি, ওই নাবালকের কোনও খারাপ আচরণের প্রতিবাদ করার অপরাধেই এমন ভয়ঙ্কর হিংসার শিকার হতে হয়েছে নিষ্পাপ শিশুটিকে।
৪০ ঘণ্টা পর অলৌকিক প্রত্যাবর্তন: রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে চণ্ডীগড়ের বিখ্যাত পিজিআইএমইআর (PGIMER) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর দীর্ঘ প্রায় ৪০ ঘণ্টা বাদে অবশেষে তার জ্ঞান ফেরে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি এখন বিপদমুক্ত এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও তদন্তের নির্দেশ: স্কুল প্রাঙ্গণে এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে হরিয়ানা সরকার ও শিক্ষা দফতর। কর্তব্যে চরম গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সরকারি স্কুলের ২ জন জুনিয়র বেসিক ট্রেনিং (JBT) শিক্ষককে তৎক্ষণাৎ স্থানান্তরিত ও সাসপেন্ড করা হয়েছে। হরিয়ানা রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন (HSCPCR) ইতিমধ্যেই জেলা শিক্ষা আধিকারিকের কাছ থেকে সম্পূর্ণ ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে হরিয়ানা সরকার ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এর পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে সমস্ত সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক ‘সিকিউরিটি অডিট’-এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হরিয়ানার শিক্ষামন্ত্রী মহিপাল ধান্ডা কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, “ছোট্ট শিশুর সঙ্গে ঘটা এই নৃশংসতায় কর্তব্যে অবহেলার প্রমাণ মিললে জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”
শিশুমনে অনলাইন গেমের ভয়াবহ প্রভাব এবং রাজ্যজুড়ে সরকারি স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে সারা দেশে জোর রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোড়ন শুরু হয়েছে।