তুষারধসের কবলে গঙ্গোত্রী-কেদারতাল ট্রেক! বাঁকুড়ার পাঁচ যুবকের কোনো খোঁজ না মেলায় হাহাকার পরিবারে!

লক্ষ্মীপুজোর আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই এক মর্মান্তিক সংবাদে কেঁপে উঠল বাঁকুড়া জেলা। উৎসবের আবহে ঘর ছেড়ে ট্রেকিংয়ের উদ্দেশ্যে উত্তরাখণ্ডে পাড়ি দিয়েছিলেন বাঁকুড়ার পাঁচ adventurous যুবক। কিন্তু সেই আনন্দঘন ভ্রমণ যে এমন এক ভয়ংকর ট্র্যাজেডিতে পর্যবসিত হবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি নিখোঁজ যুবকদের পরিবার। গত কয়েকদিন ধরে ওই যুবকদের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে না পেরে তাঁদের বাড়িতে এখন চলছে কান্নার রোল ও চরম উৎকণ্ঠা। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়া পাঁচ যুবকের মধ্যে চার জনের বাড়ি বাঁকুড়া এক ব্লকের আঁচুড়ি শালবনী এলাকায় এবং অন্য এক যুবকের বাড়ি ওই একই ব্লকের কেশড়া অঞ্চলে। নিখোঁজ এই হতভাগ্য ব্যক্তিরা হলেন— তাপস বাউরি, রিন্টু মণ্ডল, উদয় ঘোষ, রতন ঘোষ এবং মনোজ খাওয়াস।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা গিয়েছে যে, গত ২৭ অক্টোবর মোট ১২ জনের একটি দুঃসাহসী দল বন বিভাগের সমস্ত আইনি অনুমতি নিয়ে গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতালের উদ্দেশ্যে ট্রেকিং শুরু করেছিল। এই ১২ জনের দলে সাত জন অভিজ্ঞ ট্রেকার, একজন গাইড, একজন রাঁধুনি এবং তিনজন পোর্টার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ২৯ অক্টোবর তাঁদের সফলভাবে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ঠিক তার পরেই। উত্তরাখণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে হঠাৎই চরম প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ভয়াবহ তুষারঝড় ও তুষারধসের কবলে পড়ে পুরো দলটি। আবহাওয়া এতটাই মারাত্মক আকার ধারণ করে যে বরফের চাদরে সমস্ত পথঘাট সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ৩০ অক্টোবর কোনোমতে ট্রেকিং এজেন্সির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে ওই দলটি জানিয়েছিল যে তারা কাচ্ছি ঢাং এলাকার কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছে। পরবর্তীতে নেপালের তিন জন পোর্টার— নয়ন বাহাদুর সিং, হরি বাহাদুর শাহী ও দীপক সিং এবং উত্তরকাশীর রাঁধুনি রোহন রানা কোনোমতে নিজেদের প্রাণ বাঁচিয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও বাকি আট জনের আজও কোনো হদিশ মেলেনি।
এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে নিখোঁজদের সন্ধানে গত ১ নভেম্বর থেকেই উদ্ধারকার্য জোরদার করা হয়েছে। এসডিআরএফ (SDRF)-এর দুই বিশিষ্ট সদস্য— হেড কনস্টেবল রবি চৌহান এবং কনস্টেবল দীপক পন্ত হেলিকপ্টারে করে সরাসরি হারসিলে পৌঁছান এবং সেখান থেকে কেদারতাল এলাকায় একাধিকবার আকাশপথে তল্লাশি অভিযান চালান। কিন্তু একটানা তীব্র তুষারপাত ও চরম খারাপ আবহাওয়ার কারণে বারবার উদ্ধারকাজ থমকে যাচ্ছে। এদিকে বাংলার পাঁচ তরতাজা যুবকের কোনো খোঁজ না মেলায় বাঁকুড়ার প্রশাসন এবং জেলা পুলিশ উত্তরাখণ্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছে। প্রিয়জনদের জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় এখন প্রতি মুহূর্তে বুক বেঁধে বসে রয়েছেন উৎকণ্ঠায় জর্জরিত পরিবারগুলি।