“আমরা এমএলএ-কে মানি না!” খোদ ডেবরার বিজেপি বিধায়কের ওপর চড়াও হলেন ক্ষুব্ধ দলীয় কর্মীরাই!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে আবারও তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং কোন্দলের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এল। রাজ্য রাজনীতিতে শাসক দলের বিরুদ্ধে যখন প্রতিনিয়ত দুর্নীতির অভিযোগ তোলে বিরোধী শিবির, ঠিক সেই সময়ই একেবারে খোদ বিজেপির অন্দরের কোন্দল এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে উঠল। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক শুভাশিস ওম সরাসরি নিজের দলেরই একাংশ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তাঁর উপর শারীরিক আক্রমণ চালানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন। শুধু তাই নয়, তোলাবাজির বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই চালাতে গিয়েই তাঁকে এই ধরনের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ওই বিধায়ক।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা গিয়েছে, স্থানীয় এলাকায় দলীয় কর্মীদের মধ্যে একটি অভ্যন্তরীণ গোলমাল বা ঝামেলা তৈরি হয়েছিল। সেই গণ্ডগোল মেটাতে এবং দলের কর্মীদের আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচাতে মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন বিধায়ক শুভাশিস ওম নিজেই। তাঁর বক্তব্য ছিল, “আমরা সবাই একই দলীয় পতাকার তলায় থেকে লড়াই করি, ফলে নিজেদের মধ্যে বারবার মিথ্যে মামলা বা আইনি লড়াই করা কোনোভাবেই ঠিক নয়।” কিন্তু বিধায়কের এই শান্তি ফেরানোর উদ্যোগের পরেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো দিকে মোড় নেয়। অভিযোগ উঠেছে যে, দলীয় কর্মীদের একটি উগ্র ও ক্ষুব্ধ অংশ হঠাৎ করে বিধায়কের উপর চওড়া হয় এবং “আমরা কোনো এমএলএ-কে মানি না” বলে প্রকাশ্যে স্লোগান দিতে শুরু করে। বিধায়কের পরিষ্কার দাবি, এলাকায় সক্রিয় কিছু তোলাবাজ চক্র এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার হওয়ায় এবং তাদের বিরুদ্ধে লাগাতার লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় দলের ভেতরেরই কিছু সুবিধাভোগী লোক তাঁর উপর এই পরিকল্পিত আক্রমণ চালিয়েছে।

এদিকে, এই গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও গেরুয়া শিবিরের অন্দরে প্রবল শোরগোল শুরু হতেই আসরে নামে দলের জেলা নেতৃত্ব। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তন্ময় দাস সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর চড়ান। তাঁর মতে, এলাকায় আদৌ কোনো তোলাবাজির ঘটনা ঘটেছে কি না এবং তাতে দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা অভিযোগ নেই। উলটো সুরে তিনি কটাক্ষ করে বলেন যে, দলীয় সূত্রে খবর পেয়ে তিনি যখন হাসপাতালে আসেন, তখন আহতদের স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলাফেরা করতে দেখেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সাংবাদিক ও ক্যামেরার সামনে আসার পরেই হঠাৎ করে তাঁদের ব্যান্ডেজ করা শুরু হয় এবং হাসপাতালে লাইনে দাঁড়িয়ে নাটক তৈরি করা হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা বা মতপার্থক্য থাকলে তা প্রকাশ্য রাজপথে না এনে চার দেওয়ালের মধ্যে বসে মিটিয়ে নেওয়া উচিত ছিল বলেই মনে করেন জেলা সভাপতি।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলের শৃঙ্খলার প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে স্বীকার করেছিলেন যে, দলীয় স্তরে সমস্ত অনিয়ম বা তোলাবাজির সংস্কৃতি রাতারাতি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেছিলেন যে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মধ্যে বিচ্যুতি রয়ে গিয়েছে এবং ক্ষমতার পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই সামগ্রিক পরিবেশ রাতারাতি বদলে যায় না। তা সত্ত্বেও খোদ একজন নির্বাচিত বিধায়কের উপর নিজস্ব দলের কর্মীদের চড়াও হওয়ার এই নজিরবিহীন ঘটনা বাংলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রাক্কালে বিরোধী দলের অন্দরে এই প্রকাশ্য কোন্দল এবং তোলাবাজি তত্ত্ব বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।