দেশ ছাড়তে হবে কি ইমরান খানকে? বম্বে হাই কোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা অভিনেতার, ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বড় সিদ্ধান্ত

বিদেশি নাগরিকত্ব এবং আইনি বিধিনিষেধের বেড়াজালে পড়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। ভারত ছাড়ার নির্দেশ বা ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিস’ (Leave India Notice)-এর বিরূদ্ধে বম্বে হাই কোর্টের (Bombay High Court) দরবারে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হলো ‘জানে তু ইয়া জানে না’ খ্যাত এই তারকাকে। সোমবার, ২রা নভেম্বর শুনানিকালে আদালতের কাছে লিখিত মুচলেকা দিয়ে ইমরান স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি ভারতে কোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা বিক্ষোভমূলক কর্মসূচীতে অংশ নেবেন না। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে আপাতত ৭ই ডিসেম্বর পর্যন্ত সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন অভিনেতা।

কীভাবে সূত্রপাত এই বিতর্কের?

ঘটনার প্রেক্ষাপট শুরু হয়েছিল গত ১০ই অক্টোবর। মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে (August Kranti Maidan) মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে এক প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, সেই প্রতিবাদে উপস্থিত থাকার জন্য পুলিশ ইমরান খানকে আটক করে। ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর সঙ্গী লেখাওয়াশিংটন এবং তুতো বোন জাইন মারি খান।

কেন জারি করা হয় ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিস’?

মার্কিন নাগরিক হলেও ইমরান খানের কাছে দীর্ঘদিনের ওসিআই (Overseas Citizen of India) কার্ড রয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের নথিভুক্তিকরণ দফতর (FRRO) ১৪ই অক্টোবর ইমরানকে একটি কড়া নোটিস ধরায়। তাতে উল্লেখ করা হয়, ওসিআই ধারক হিসেবে কোনো বিদেশি নাগরিক ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিবাদে অংশ নিতে পারেন না, যা অভিবাসন সংক্রান্ত আইনের লঙ্ঘন। সেই কারণে ২৮শে অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে দেশ ছাড়ার কড়া নির্দেশ জারি হয়।

আদালতে ইমরানের যুক্তি ও বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ

এফআরআরও-র (FRRO) এই নির্দেশিকাকে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাই কোর্টে মামলা করেন অভিনেতা। তাঁর আইনজীবী জানান, কোনো রকম ‘কারণ দর্শানোর নোটিস’ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত অন্যায়।

সোমবার শুনানির সময় বম্বে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ কড়া সুরে মন্তব্য করে যে, “ওসিআই কার্ডধারীরা কোনোভাবেই সাধারণ ভারতীয় নাগরিকদের সমতুল্য হতে পারেন না। ভারতে থেকে সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মসূচীতে নামা মেনে নেওয়া যায় না। প্রতিবাদ করতে হলে আমেরিকায় যান।”

৭ই ডিসেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য

যদিও ইমরান খান ভারতে বহু দশক ধরে বসবাস করছেন এবং তাঁর ক্যারিয়ার এই দেশের সঙ্গেই যুক্ত, তাই আদালতের তরফে উদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এফআরআরও-কে নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে ইমরানকে তাঁর জবাব পেশের সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইমরানের নিঃশর্ত ক্ষমা ও মুচলেকা গ্রহণ করে ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিস’-এর ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামী ৭ই ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন বিচারপতিরা। তত দিন পর্যন্ত দেশ ছাড়তে হচ্ছে না এই বলিউড তারকাকে।