জেএনইউ অধ্যাপক ও কংগ্রেস সাংসদ আকোইজামের বরখাস্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ! বড় স্বস্তিতে সাংসদ

জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) অধ্যাপক তথা কংগ্রেস সাংসদ অঙ্গমচা বিমল আকোইজামকে বড়সড় আইনি স্বস্তি দিল দিল্লি হাইকোর্ট। জেএনইউ প্রশাসনের তরফে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার যে নির্দেশ জারি করা হয়েছিল, সোমবার তার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি অনুপ জয়রাম ভাম্ভানি। এই স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত স্বস্তিতে কংগ্রেস সাংসদ। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে।

যৌন নিগ্রহের অভিযোগ ও বরখাস্তের সিদ্ধান্ত

ঘটনার সূত্রপাত, জেএনইউ-এর ‘স্কুল অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস’-এর প্রাক্তন অধ্যাপক বিমল আকোইজামের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রী যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তোলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি এই অভিযোগগুলির তদন্ত করে এবং তদন্ত শেষে অভিযোগ সত্য বলে দাবি করে রিপোর্ট জমা দেয়। সেই তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই গত ৯ই অক্টোবর জেএনইউ প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে অধ্যাপক পদ থেকে বরখাস্ত করে।

হাইকোর্টের দ্বারস্থ সাংসদ, ‘রাজনৈতিক চক্রান্তের’ অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চরম সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সাংসদ অঙ্গমচা বিমল আকোইজাম। আদালতে দায়ের করা আবেদনে তিনি দাবি করেন, বরখাস্তের মতো এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফ থেকে তাঁকে কোনো প্রকার আগাম নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

একই সাথে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি অভিযোগ তোলেন, এই গোটা প্রক্রিয়াটিতে একাধিক পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়েছে এবং এটি একটি সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ পদক্ষেপ।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর, হাইকোর্ট জেএনইউ-এর বরখাস্তের নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে নির্দেশ দেয়। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে এই হাইপ্রোফাইল মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha