বিমানের টিকিটে একগুচ্ছ নয়া নিয়ম! জানুয়ারি থেকেই বদলে যাচ্ছে ভাড়া নির্ধারণের ধরন, বড় আপডেট

দেশের আকাশপথে যাতায়াতকারী বিমানযাত্রীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। বিমানের টিকিটের দাম এবং ভাড়ার কাঠামোয় স্বচ্ছতা আনতে নতুন নিয়ম কার্যকর করতে চলেছে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক। অসামরিক বিমান পরিবহন নিয়ামক সংস্থা বা ডিজিসিএ (DGCA)-র অধিনস্থ এই নতুন নির্দেশিকাটি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে কার্যকর হতে চলেছে।
ইচ্ছামতো ভাড়া নির্ধারণের সুযোগের সাথেই কড়া শর্ত
নতুন ‘ভারতীয় বায়ুজান নিয়ম’-এর অধীনে বিমান সংস্থাগুলি পরিচালন ব্যয় ও যাত্রীদের চাহিদার ভিত্তিতে নিজেদের মতো টিকিটের ভাড়া নির্ধারণ করার স্বাধীনতা পাবে। সাধারণ সময়ে সরকার টিকিটের দামের ওপর কোনো ঊর্ধ্বসীমা বা স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ চাপাবে না। তবে চাহিদা বেশি থাকলে বা ইচ্ছামতো হিডেন চার্জ যুক্ত করার যে প্রবণতা এতদিন দেখা যেত, সেটিতে রাশ টানতেই একাধিক কড়া শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
ওয়েবসাইটে প্রকাশ্যে আনতে হবে সমস্ত তথ্য
নতুন নিয়ম চালু হলে প্রতিটি বিমান সংস্থাকে তাদের নির্ধারিত সমস্ত ভাড়ার বিস্তারিত তালিকা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ডিজিসিএ-র কাছে নিয়মিত জমা দিতে হবে। একই সাথে সমস্ত ট্রাভেল এজেন্সি, ডিজিটাল মাধ্যম এবং নিজস্ব অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও ভাড়ার সম্পূর্ণ ব্রেক-আপ স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।
টিকিটে থাকবে খরচের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ
এখন থেকে টিকিট বুকিংয়ের মূল পৃষ্ঠা এবং ইস্যু করা টিকিটে যাত্রীদের দেওয়া টাকার সম্পূর্ণ বিবরণ আলাদা আলাদা করে দেখাতে হবে। এতে থাকবে—
মূল ভাড়া বা বেসিক ফেয়ার
সরকারি কর ও অন্যান্য ফি
অতিরিক্ত পরিষেবার চার্জ
টিকিট বাতিলের সময় প্রযোজ্য চার্জ
টাকা ফেরত বা রিফান্ডের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি
জরুরি পরিস্থিতিতে রাশ টানবে কেন্দ্র
স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বিমান সংস্থাগুলি স্বাধীনভাবে ভাড়া নির্ধারণ করতে পারলেও, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ বা জরুরি অবস্থায় ভাড়ার ক্ষেত্রে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে। হঠাৎ করে বিমান সংস্থাগুলি যাতে যাত্রীদের কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে, তার জন্য বিশেষ পরিস্থিতিতে ভাড়ার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বা নির্দেশিকা জারি করার সর্বময় ক্ষমতা কেন্দ্র নিজের হাতেই রেখেছে। এর ফলে বিমান সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনই অযথা বাড়তি টাকা গোনার হাত থেকেও রক্ষা পাবেন সাধারণ যাত্রীরা।