‘পিএম মানে প্রাইম মিনিস্টার নয়, পি-তে পসীনা আর এম-এ মেহনত!’ বিরোধীদের হুঙ্কার উড়িয়ে সোজাসুজি চ্যালেঞ্জ সম্বিত পাত্রের!

: ভোট চুরির অভিযোগ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রবিবার দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে (Ramlila Maidan) যে মেগা সমাবেশ করেছিল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট, তা নিয়ে জাতীয় রাজনীতি এখন চরম উত্তপ্ত। তবে বিরোধীদের এই শক্তিপ্রদর্শনকে পাত্তা না দিয়ে উল্টে এই জনসভায় মানুষের উপস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানাল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। বিজেপির জোরালো দাবি, বিরোধী জোটের এই মেগা সমাবেশ পুরোপুরি ফ্লপ হয়েছে এবং রাহুল গান্ধী যখন মঞ্চে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর সামনে বহু চেয়ারই ফাঁকা পড়ে ছিল।

‘৫০ হাজার ধারণক্ষমতার মাঠও ভরাতে পারেনি কংগ্রেস!’—সামাজিক মাধ্যমে তোপ

বিজেপির পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ রামলীলা ময়দানের ভিড়ের বেশ কিছু দৃশ্য শেয়ার করে দাবি করা হয়েছে, রাহুল গান্ধীর মতো হেভিওয়েট নেতা ভাষণ দেওয়ার সময়ও সামনে শুধুই খালি চেয়ার দেখা গেছে। ৫০ হাজার মানুষের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ঐতিহ্যবাহী রামলীলা ময়দানও বিরোধীরা ভরাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে কটাক্ষ করেছে গেরুয়া শিবির।

সাংবাদিক বৈঠকে আক্রমণ শানিয়ে বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র বলেন:

“আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন যে রামলীলার প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গা পুরো ফাঁকা ছিল। রাহুল গান্ধী ও তাঁর দল দাবি করেছিলেন যে এই মিছিলে ১০ লাখ মানুষ যোগ দেবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে চারটের মধ্যে ময়দানে পাতা ২৮ হাজার চেয়ারের মধ্যে অন্তত ৫ থেকে ৭ হাজার চেয়ার খালিই পড়ে ছিল। ১০ লাখ মানুষের হাজিরার গল্পের আসল সত্যি হলো এটাই!”

সম্বিত পাত্র আরও শ্লেষের সুরে বলেন, “এতগুলি দল একসঙ্গে হাত মেলালেও সামান্য দশ হাজার মানুষও জমাতে পারেনি বিরোধীরা। শুধু কৌশল বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কেউ প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায় না। ‘PM’ কথার অর্থ কেবল প্রাইম মিনিস্টার নয়; ‘P’-তে হলো পসীনা (ঘাম) এবং ‘M’-এ হলো মেহনত (কঠোর পরিশ্রম)। ঘাম ঝরানো মেহনত দিয়েই আসল নেতা তৈরি হয়।”

পাশাপাশি বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারী সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেছেন, রাহুল গান্ধীর বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই হতাশ হয়ে মানুষ ময়দান ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেছিলেন।

রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের হেভিওয়েট উপস্থিতি ও ঝাঁঝালো হুঙ্কার

রবিবার সকাল থেকেই দিল্লির মিন্টো রোড-কনট প্লেস সংযোগস্থল থেকে এক খোলা জিপে চেপে বিরোধীদের যৌথ ‘চলো দিল্লি’ মিছিল রামলীলা ময়দানের দিকে অগ্রসর হয়। সমাবেশে দেশের তাবড় বিরোধী নেতারা উপস্থিত ছিলেন:

  • কংগ্রেস শিবির: লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা।

  • অন্যান্য দলীয় নেতৃত্ব: তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, সিপিআইএমের এম এ বেবি, সিপিআই-এর ডি রাজা, সিপিআই (এমএল)-এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, জেকেএনসি-র ফারুক আবদুল্লাহ এবং পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী সরাসরি অভিযোগ করেন যে, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তীসগড় ও ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ইভিএম ও ভোটার তালিকায় কারচুপি করে সচেতনভাবে ‘ভোট চুরি’ করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, একসময় এই অন্যায়ের জন্য জ্ঞানেশ কুমারকে জেলেও যেতে হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া বাতিল এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ হানেন।

তবে এত সব হুঙ্কারের পরেও বিরোধী জোটের এই মেগা বিক্ষোভকে রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি গুরুত্বহীন, ভিত্তিহীন এবং সময়ের অপচয় বলে দাগিয়ে দিয়ে গোটা সমাবেশকে ভুয়ো প্রোপাগান্ডা বলে উড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রর ক্ষমতাসীন বিজেপি।