‘আমাদের ধর্ম মানুষের গলা শোনা!’ জ্ঞানেশকাণ্ডে সিইসি-কে ‘দেশদ্রোহী’ ঘোষণা করে দিল্লিতে বিরোধীদের মহাধামাকা!

দেশের মসনদ থেকে বিজেপি উৎখাত হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা! আর কেন্দ্রে সরকার বদল হলেই সবার প্রথমে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত বিরোধীদের মেগা সমাবেশ থেকে বিস্ফোরক ঘোষণা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

রবিবার রামলীলা ময়দানের ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ মঞ্চ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আক্ষরিক অর্থেই ‘দেশদ্রোহী’ বলে তোপ দাগেন রাহুল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ভোট চুরির দায়ে সিইসি-কে জেলে যেতেই হবে এবং তার পর আসবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পালা!

‘মোদী কোথাও যেতেও পারবেন না, যেতে দেওয়াও হবে না!’

দেশজুড়ে ভোটার তালিকায় ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও চক্রান্তের অভিযোগে এবং সিইসি-র ইস্তফার দাবিতে উত্তাল গোটা রাজধানী।

সমাবেশের সুবিশাল মঞ্চ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এক সাম্প্রতিক মন্তব্যের পালটা দিয়ে রাহুল বলেন:

“অমিত শাহ সম্প্রতি বলেছেন যে নরেন্দ্র মোদী নাকি কোথাও যাচ্ছেন না। আমি আপনাদের গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, নরেন্দ্র মোদীজি কোথাও যেতেও পারবেন না, আর উনি যদি যেতে চান, তাহলেও তাঁকে আমরা যেতে দেব না!”

রাহুল মোদী-শাহ জুটিকে সরাসরি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “নরেন্দ্র মোদীজি এবং অমিত শাহজি, একদম পরিষ্কার বুঝে নিন—জ্ঞানেশ কুমারের পরই আপনাদের নম্বর আসছে। আপনারা দেশের কোটি কোটি ভোটারের যে ভোট চুরি করেছেন, তা আমরা ভুলে যাইনি। আপনাদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে।”

‘সংবিধান আপনাদের চেয়ে বড়, অহংকার চুরমার হবে!’

ধর্মীয় বিভাজন ও মেরুকরণের রাজনীতি নিয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি জানান, কেউ যদি তাঁর ধর্ম জানতে চায়, তবে তিনি এক বাক্যে বলবেন—দেশের সাধারণ মানুষের গলা শোনাই হলো তাঁর মূল ধর্ম।

রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের দাবি অনুযায়ী প্রায় ১০ লক্ষ মানবের ঢল নেমেছিল। যদিও এই বিশাল জমায়েতকে কটাক্ষ করে পদ্ম শিবির দাবি করেছে, রামলীলা ময়দান নাকি পুরোপুরি ভর্তিই হয়নি!