‘প্রেমের দোকানে কেবল ঘৃণাই মিলবে!’ ২০২৭-এর দলবদলের মুখেই রাহুলের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী!

২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে (Punjab Assembly Election) সামনে রেখে এখন থেকেই প্রচারের ভিত শক্ত করতে নেমে পড়ল বিজেপি। আর এই আবহেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস শিবিরকে একের পর এক চাঁচাছোলা তোপে বিদ্ধ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

রাহুলের বহু চর্চিত ‘মহব্বত কি দোকান’ (প্রেমের দোকান) স্লোগান থেকে শুরু করে তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা—কোনো কিছু নিয়েই খোঁচা দিতে ছাড়েননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

‘আপনার প্রেমের দোকানে শুধুই হিংসা ও ঘৃণা!’

চণ্ডীগড়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাহুল গান্ধীর রাজনীতিকে আক্রমণ করে বলেন, “রাহুলজি, আপনার ওই প্রেমের দোকানে ভালোবাসা নয়, বরং ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাবে না।”

ইদানীং কংগ্রেসের ‘মক পার্লামেন্ট’ বা ছায়া সংসদ আয়োজনের সিদ্ধান্তকেও কড়া ভাষায় ব্যঙ্গ করেন শাহ। তিনি সরাসরি রাহুলকে নিশানা করে বলেন:

“রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হতে চান, আর সেই কারণেই হয়তো উনি এই মক পার্লামেন্ট ডাকার একটা নতুন পথ খুঁজে বের করেছেন। রাহুলজি, আপনি আপনার ওই ছায়াসংসদেই প্রধানমন্ত্রী পদে বসে থাকুন, কিন্তু দেশের আসল প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন কোনোদিন সত্যি হবে না।”

‘দিল্লিতে তিনবার শূন্য, আগামী তিনবারেও খাতা খুলবে না!’

দিল্লির বিগত কয়েকটি বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসের করুণ হাল মনে করিয়ে দেন শাহ। তিনি দাবি করেন, শেষ তিনটি নির্বাচনে দিল্লিতে কংগ্রেস পুরোপুরি শূন্যের ঘরে নেমে গিয়েছে।

শাহের ভবিষ্যদ্বাণী, “পরবর্তী তিনটি নির্বাচনেও ওই রাজ্যে হাত শিবির খাতা খুলতে পারবে না। তাই আপনারা চিরকালের জন্য বিরোধী আসনেই বসার প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন।”

একই সঙ্গে উৎসবের মরশুমে রাজধানীতে বাণিজ্যিক ক্ষতি রুখতে ব্যবসায়ীরা যেভাবে রাজনৈতিক সমাবেশ না করার জন্য কংগ্রেসের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, সেই বিষয়টি তুলে ধরেও হাত শিবিরকে বিঁধেছেন তিনি।

২০২৯-এর মধ্যে ‘মাদকমুক্ত’ পাঞ্জাব ও দেশের ডাক

২০২৭ সালের পাঞ্জাব নির্বাচনে কোনো জোট বা ছোট শরিক হিসেবে নয়, বরং নিজস্ব একক শক্তিতে সরকার গড়ার লক্ষ্যে নামছে পদ্ম শিবির। সেই লক্ষ্যেই পাঞ্জাবের সবচেয়ে বড় সমস্যা—মাদককে প্রধান হাতিয়ার করছে বিজেপি।

অমিত শাহ দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সমগ্র দেশের পাশাপাশি পাঞ্জাব থেকেও মাদক সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল করা হবে।

এদিকে, আম আদমি পার্টি (AAP) ইতিমধ্যেই পাঞ্জাবে ৪০ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা প্রকাশ করে ভোটের বাদ্যি বাজিয়ে দিয়েছে। সেই উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে অমিত শাহের এই আগ্রাসী মন্তব্য পাঞ্জাব তথা ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যুক্ত করল।

Aditi Banik
  • Aditi Banik