প্লাস্টিকের ১০ ও ২০ টাকার নোট আসছে কবে? পকেটে থাকা কাগজের টাকার যুগ কি তবে শেষ হতে চলেছে?

অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতের আর্থিক বাজারে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। সাধারণ কাগজের মুদ্রার দিন শেষ করে এবার দেশজুড়ে চালু হতে চলেছে প্লাস্টিক বা পলিমারের তৈরি নোট (Plastic Notes in India)। প্রাথমিক পর্যায়ে একেবারে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে মাত্র ১০ টাকা ও ২০ টাকার নোট দিয়েই এই নতুন যাত্রা শুরু করতে চলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
🏧 এটিএম বদলানোর খরচ বাঁচাতে বহাল থাকছে নোটের পুরনো সাইজ
‘মানি কন্ট্রোল’-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ কাগজের নোটের বদলে প্লাস্টিক বা পলিমার নোট আনার কথা ভাবলেও, নোটের আকার ও আয়তনে কোনো পরিবর্তন আনছে না আরবিআই।
কেন সাইজ বদলানো হচ্ছে না? কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক নতুন করে ব্যাঙ্কগুলির অপারেশনাল খরচ বাড়াতে চাইছে না। যদি নোটের সাইজ বা মাপ পরিবর্তন করা হতো, তবে দেশের সমস্ত এটিএম (ATM) মেশিন নতুন করে রিকনফিগার করতে হতো, যাতে প্রচুর অর্থ অপচয় হতো।
সেই কারণেই ১০ ও ২০ টাকার প্লাস্টিক নোটের আকার প্রচলিত কাগজের নোটের মতোই রাখা হচ্ছে, যা ব্যাঙ্কগুলিকে অতিরিক্ত খরচ থেকে মুক্তি দেবে।
📈 ৩০ বছরেরও বেশি সময় টিকবে পলিমার নোট
গত অগস্ট মাসে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রার মুখে প্রথম এই পলিমার নোট চালুর ইঙ্গিত মিলেছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, বিশ্বের যেসব দেশে প্লাস্টিকের নোট চালু রয়েছে, সেখানে দেখা গেছে এই নোটগুলি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অক্ষত থাকে। বহুবার হাতবদল হলেও কাগজের নোটের মতো এগুলো সহজে ছেঁড়ে না।
২ বিলিয়ন নোটের টার্গেট: প্রথম দফায় প্রায় ২ বিলিয়ন প্লাস্টিকের নোট বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। যার মধ্যে ১০ টাকা এবং ২০ টাকার নোট থাকবে ১ বিলিয়ন করে। বাজারে এই নোটগুলির স্থায়িত্ব এবং কার্যকারিতা কেমন হয়, তা খতিয়ে দেখার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ করবে আরবিআই।
কবে থেকে মিলবে হাতে? আগামী অর্থবর্ষ অর্থাৎ ১ এপ্রিল, ২০২৭ সাল থেকেই এই পলিমার নোটগুলি সাধারণ মানুষের হাতে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় প্লাস্টিকের নোট চালু হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে এই পলিমার কারেন্সি সফলভাবে প্রচলিত রয়েছে। কাগজের নোটের মতো এগুলি বারবার প্রিন্ট করার প্রয়োজন হয় না বলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের মুদ্রণ খরচও অনেকটাই কমে যায়।