IIT ধানবাদের হোস্টেলের ৮ তলা থেকে নিচে পড়ে ঝুলল ছাত্রের দেহ! দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু? ক্যাম্পাসে তোলপাড়

ঝাড়খণ্ডের ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ (IIT-ISM, Dhanbad) থেকে এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। শনিবার ক্যাম্পাসের হোস্টেলের অষ্টম তলা থেকে নিচে পড়ে মারা গিয়েছেন ২১ বছর বয়সী এক বি.টেক চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র।
হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন, তার পরেই শেষ হতে চলেছিল পড়াশোনা। তার আগেই হোস্টেলের আট তলা থেকে পড়ে ওই পড়ুয়ার মর্মান্তিক প্রয়াণে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
🎓 নিহত ছাত্র পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেষ বর্ষের পড়ুয়া
পুলিশ ও প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম প্রতীক রাজকুমার (২১)। তিনি মূলতঃ মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলার আহমেদপুরের বাসিন্দা ছিলেন।
প্রতীক আইআইটি-আইএসএম (IIT-ISM) ধানবাদের পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষে পাঠরত ছিলেন। তাঁর এই আচমকা মৃত্যুসংবাদ মহারাষ্ট্রে থাকা তাঁর পরিবারের কাছে পৌঁছাতেই সেখানে মাতম শুরু হয়েছে।
🏥 হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি
প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রধান রাম মনোহর ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন:
ঘটনাক্রম: শনিবার আচমকা হোস্টেল ভবনের অষ্টম তলা থেকে নিচে পড়ে যান প্রতীক। বিকট শব্দ শুনে ক্যাম্পাসের ছাত্ররা এবং নিরাপত্তাকর্মীরা ছুটে আসেন।
হাসপাতালে ঘোষণা: রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর সহপাঠী ও বন্ধু-বান্ধবরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
🔍 মৃত্যুর পেছনে আসল রহস্য কী? তদন্তে পুলিশ
ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য বা মানসিক অবসাদ রয়েছে, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে: স্থানীয় থানা-পুলিশ ঘটনার খবর পেয়েই হোস্টেলে পৌঁছায় এবং বিভিন্ন কোণ থেকে তদন্ত শুরু করেছে।
মানসিক স্বাস্থ্য ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা: সহপাঠী এবং হোস্টেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতীকের ফোন এবং তাঁর ঘরের নানাবিধ জিনিসপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ছাত্রের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু শিক্ষার্থী মহলে মানসিক চাপ, সংবেদনশীলতা এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে আরও একবার বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।