রাস্তায় ঝরল LIC এজেন্টের প্রাণ, ৩ বছর পর আদালতের এক রায়েই কেঁপে উঠল বিমা কোম্পানি!

০২৩ সালে মহারাষ্ট্রের আম্বারনাথে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন (LIC) এজেন্টের পরিবার অবশেষে বিচার পেল। মোটর অ্যাক্সিডেন্ট ক্লেইমস ট্রাইব্যুনাল (MACT), থানে সম্প্রতি এই সংক্রান্ত মামলায় এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে। বিমা কোম্পানির সমস্ত যুক্তি নস্যাৎ করে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, নিহতের পরিবারকে ৩০.৩৬ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৬শে মার্চ আম্বারনাথে এক বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় ৫৫ বছর বয়সী এলআইসি এজেন্ট প্রকাশ সচদেব ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিকভাবে মারা যান। সেই ঘটনার পর হিল লাইন পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং মোটরযান আইনের আওতায় ঘাতক গাড়িচালকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছিল।

⚖️ “সম্পূর্ণ দোষ ঘাতক চালকের!” — বিমা কোম্পানির যুক্তি ওড়ালো আদালত

৩০শে অক্টোবরের এক তাৎপর্যপূর্ণ আদেশে MACT-এর সদস্য আর ভি মোহিতে স্পষ্ট জানান যে, দুর্ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে ঘাতক গাড়িচালকের বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন গাড়ি চালানোর কারণেই ঘটেছে।

মামলা চলাকালীন বিমা কোম্পানি দাবি করেছিল যে, মৃত সচদেব নিজেই ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এমনকি গাড়ির মালিকও দাবি করেছিলেন যে, সচদেব ইন্ডিকেটর লাইট না জ্বালিয়ে হঠাৎ গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

তবে ট্রাইব্যুনাল এই সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়। নিহতের আয়কর রিটার্ন (ITR)-এর নথি ও আয়ের ভিত্তিতে তাঁর বার্ষিক উপার্জন নির্ধারণ করে আদালত পরিবারটির জন্য ৩০,৩৬,৪১৮ টাকা ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করে।

💰 স্ত্রী ও কন্যার মধ্যে ক্ষতিপূরণ বণ্টন

আদালতের নির্দেশানুযায়ী, মোট ক্ষতিপূরণের অঙ্কের মধ্যে:

  • স্ত্রী পাবেন: অর্জিত সুদসহ ১৭,৩৬,৪১৮ টাকা।

  • কন্যা পাবেন: ১৩,০০,০০০ টাকা।

📌 পূর্ববর্তী নজির: পুনে ট্রাইব্যুনালের ৮৫.৯৮ লক্ষ টাকার নির্দেশ

থানের এই ক্ষতিপূরণের রায়ের আগে, গত সেপ্টেম্বর মাসে পুনে মোটর দুর্ঘটনা দাবি ট্রাইব্যুনাল এক মৃত গৃহশিক্ষিকার পরিবারকেও ৮৫.৯৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিয়েছিল। ২০২৩ সালের ৩১শে জানুয়ারি এক বেপরোয়া ট্রাকের ধাক্কায় ওই শিক্ষিকার মৃত্যু হয়। সেই মামলাতেও ট্রাক চালকের অবহেলাকে দায়ী করে মৃতার স্বামী ও দুই নাবালক সন্তানকে ৭% সুদে বিপুল টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

মোটর দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মামলায় বিমা কোম্পানিগুলোর এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতার মুখে দাঁড়িয়ে আদালতের এই পরপর সিদ্ধান্তগুলি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এক বড়সড় আইনি জয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।