“ভোট পেলেই ভালো, হারলেই কমিশন খরাপ?” রামলীলা ময়দানের আন্দোলনের দিনই কংগ্রেসের পর্দাফাঁস করলেন রিজিজু

নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে মোদী সরকার ও বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের দ্বন্দ্ব এবার চরমে পৌঁছাল। বিরোধীরা যখন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’ ও রামলীলা ময়দানে মহা-সমাবেশের তোড়জোড় করছে, ঠিক তখনই পাল্টা আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।

ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও ইসিআই-এর বিরুদ্ধে একতরফা সিদ্ধান্তের কাল্পনিক অভিযোগ তুলে কংগ্রেস দেশকে বিভ্রান্ত করছে দাবি করে, কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে সরাসরি ৫টি কড়া প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

❓ কিরেন রিজিজুর সেই ৫টি বিস্ফোরক প্রশ্ন:

সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে রিজিজু কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে এই প্রশ্নগুলির স্পষ্ট উত্তর চেয়েছেন:

  1. ২০১৪-র ৪৪টি আসনের ব্যাখ্যা কী?

    “২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যখন নির্বাচন কমিশনারদের আপনাদের (কংগ্রেস) সরকারই নিয়োগ করেছিল, তখন আপনারা মাত্র ৪৪টি আসনে নেমে এসেছিলেন কেন?”

  2. ২০২৪-এ জ্ঞানেশ কুমার সিইসি ছিলেন না, তবুও হ্যাটট্রিক হার কেন?

    “২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের সময় জ্ঞানেশ কুমার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদে আসীন ছিলেন না, তবুও কীভাবে কংগ্রেস হ্যাটট্রিক হারের মুখোমুখি হলো?”

  3. কংগ্রেসের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীরা কি পদত্যাগ করবেন?

    “যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ইসিআই-এর ওপর আপনাদের বিন্দুমাত্র আস্থা না থাকে, তবে ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেস যেসব সরকার গঠন করেছে, তার জন্য বর্তমান কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রীরা কি পদত্যাগ করবেন এবং দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইবেন?”

  4. অवैধ ও ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া কি অপরাধ?

    “ভোটার তালিকায় থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, মৃত ব্যক্তি, ঠিকানা পরিবর্তনকারী বা ডুপ্লিকেট নামগুলো বাদ দেওয়া উচিত কি না?“

  5. অতীতের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াগুলো কি বেআইনি ছিল?

    “১৯৫২-৫৬, ১৯৫৮-৬১, ১৯৬৫-৬৬, ১৯৮৩-৮৪, ১৯৮৭-৮৮, ১৯৯৩, ১৯৯৫ এবং ২০০২-২০০৪ সালে যে সব এসআইআর পরিচালিত হয়েছিল, সেগুলি কি সব বেআইনি ছিল?”

🏛️ “সংবিধান ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র”

কিরেন রিজিজু অত্যন্ত কড়া ভাষায় তোপ দাগেন যে, একটি পরিবার-ভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাইরের কিছু ভারত-বিরোধী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করার বিপজ্জনক চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, কংগ্রেস নির্বাচনে জিতলে নির্বাচন কমিশন ভালো থাকে, কিন্তু হেরে গেলেই কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট কিংবা এসআইআর-এর মতো সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর দায় চাপিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিনের নাটক শুরু করে দেয়। নির্বাচন কমিশনের কোনো সিদ্ধান্তই একতরফা নেওয়া হয়নি, বরং স্বচ্ছতার সাথেই সমস্ত সংশোধন করা হচ্ছে বলে স্পষ্ট করেন রিজিজু।

ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন কমিশনার ইস্যুতে দুই শিবিরের এই সম্মুখ সমরে জাতীয় রাজনীতি এখন উত্তপ্ত।