ওমর আবদুল্লাহর ক্যাবিনেটে চরম বিদ্রোহ! বৈঠকে বসলেন ১৫ বিধায়ক, ৪ মন্ত্রীকে সরানোর ডেডলাইন

জম্মু ও কাশ্মীরে ক্ষমতায় ফিরেই বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়ল শাসক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স (NC)। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর বহুল প্রতীক্ষিত মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পর থেকেই দলের অন্দরে জমতে থাকা ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফেটে পড়েছে। ১৫ জনেরও বেশি অসন্তুষ্ট বিধায়ক ইতিমধ্যেই গোপন বৈঠক করে ওমর আবদুল্লাহ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা শুরু করেছেন। একই সঙ্গে শ্রীনগরের প্রভাবশালী সাংসদ আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহদীও দলীয় নেতৃত্বের ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে দলত্যাগের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।

🏛️ ১৫+ বিধায়কের গোপন বৈঠক: ৪ মন্ত্রীকে ছাঁটাইয়ের চরম বার্তা

২৭ অক্টোবর লোক ভবনে লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা চারজন নতুন মন্ত্রী—আলী মোহাম্মদ সাগর, মীর সাইফুল্লাহ, শামীমা ফিরদৌস এবং আলতাফ আহমেদ ওয়ানি (আলতাফ কালু)-কে শপথবাক্য পাঠ করান। পাশাপাশি নির্দল বিধায়ক সতীশ শর্মাকে মন্ত্রিসভা থেকে ছাঁটাই করা হয়।

এর পর থেকেই প্রবীণ ও বঞ্চিত বিধায়কদের ক্ষোভ তুঙ্গে ওঠে:

  • বর্জন ও গোপন বৈঠক: শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি অন্তত ১১ জন বিধায়ক বয়কট করেছিলেন। এর পরপরই শুক্রবার ১৫ জনেরও বেশি বিধায়ক একত্রিত হয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

  • নতুন মুখের দাবি: সূত্রে খবর, এই বিধায়করা একমত হয়েছেন যে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর শপথ নেওয়া প্রথম দফার চারজন মন্ত্রীকে অবিলম্বে পদ থেকে সরাতে হবে। তাঁদের দাবি, “তাঁরা ইতিমধ্যে মেয়াদ পূর্ণ করেছেন, এবার তাঁদের জায়গায় নতুন ও যোগ্য মুখ আনতে হবে।”

  • সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা: অনুপস্থিত বিধায়করাও এই অসন্তোষে সায় দিয়েছেন, ফলে বিদ্রোহের ব্যাপ্তি ১৫ ছাড়িয়ে আরও অনেকদূর পৌঁছাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

⚡ ৩ নভেম্বর ইস্তফার মুখে সাংসদ আগা রুহুল্লাহ!

একদিকে যখন বিধানসভায় বিধায়কদের বিদ্রোহ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ওমর আবদুল্লাহ, ঠিক তখনই সংসদীয় রাজনীতির ময়দানে ধাক্কা দিয়েছেন দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা শ্রীনগরের সাংসদ আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহদী।

সংরক্ষণ এবং কাশ্মীরের মৌলিক ইস্যুগুলোতে দলের অবস্থানের আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে তীব্র ক্ষুব্ধ তিনি। দলীয় সূত্রে খবর, আগামী ৩ নভেম্বরই তিনি ন্যাশনাল কনফারেন্স থেকে নিজের সম্ভাব্য ইস্তফার ঘোষণা দিতে চলেছেন।

📊 ৯ মন্ত্রীর কোটা পূর্ণ, হাতে আর কোনো সুযোগ নেই

জম্মু ও কাশ্মীরের আইনি কাঠামো অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীসহ সর্বোচ্চ ৯ জন মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব। নতুন চারজনকে অন্তর্ভুক্ত এবং সতীশ শর্মাকে বাদ দেওয়ার ফলে ওমর আবদুল্লাহর ক্যাবিনেট এখন পূর্ণ শক্তিতে পৌঁছে গেছে। ফলে নতুন করে কাউকেই আর স্বান্তনা দেওয়ার মতো পদ ফাঁকা নেই ওমরের হাতে।

জ্যেষ্ঠতা, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং প্রবীণ নেতাদের বাদ পড়া নিয়ে তৈরি হওয়া এই রক্তক্ষরণ ওমর আবদুল্লাহ সরকারের স্থায়ীত্বকেই এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে ঠেলে দিল।