“নকশালবাদ শেষ, কিন্তু বিপদ কাটেনি!” জাতীয় ঐক্য দিবসে গুজরাটের মঞ্চ থেকে বিরোধীদের ধুয়ে দিলেন মোদী

সশস্ত্র নকশালবাদ শেষ হলেও দেশে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ঐক্য রক্ষায় দেশবাসীকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার (৩১ অক্টোবর) গুজরাটের একতা নগরে ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’-র পাদদেশে জাতীয় ঐক্য দিবস (National Unity Day) উদযাপনের এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তিনি। সেখান থেকে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক বিরোধী শিবিরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদীর স্পষ্ট অভিযোগ, দেশের সংবিধান অনুযায়ী বিরোধীদের কাজ নীতিগত সমালোচনা করা হলেও বর্তমান বিরোধী দল সেই দায়িত্ব ভুলে গিয়ে দেশের সব উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

🏛️ “বিরোধী দল এখন উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতে পরিণত হয়েছে”

প্যারেড গ্রাউন্ডের বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন:

  • সংবিধান প্রণেতাদের স্বপ্ন: সর্দার প্যাটেল এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের মতো সংবিধান প্রণেতারা যখন স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনা করেছিলেন, তখন তাঁরা একটি সুনির্দিষ্ট শাসক দল ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের রূপরেখা তৈরি করেছিলেন।

  • দায়িত্ব থেকে বিচ্যুতি: গণতন্ত্রের মূল শর্তই হলো সরকারের ভুল নীতির গঠনমূলক বিরোধিতা করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, বর্তমান বিরোধী দল নিজের সেই গণতান্ত্রিক কর্তব্য হারিয়ে ফেলেছে।

  • রাজনীতির স্বার্থে বাধা: বিরোধীরা নীতিগত সমালোচনার বদলে কেবল বাধা সৃষ্টিতেই মনোনিবেশ করেছে। এক দশকের টানা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে তারা সাংবিধানিক নিয়মকানুনকে ছিন্নভিন্ন করার রাজনৈতিক এজেন্ডা গ্রহণ করেছে।

⚠️ “ভারত-বিরোধী শক্তিতে মদত দিচ্ছে কারা?”

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং ‘শহুরে ও বুদ্ধিভিত্তিক নকশালবাদ’ (Intellectual Naxalism) নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারত আজ সশস্ত্র নকশালবাদমুক্ত হওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েছে, কিন্তু দেশকে ভেতর থেকে টুকরো করার এক গভীর রাজনৈতিক চক্রান্ত এখনও কাজ করে চলেছে।

বিস্ফোরক সুরে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন:

  • “বিদেশে গিয়ে ভারতের শত্রুদের সঙ্গে কারা দেখা করছে?”

  • “আন্তর্জাতিক স্তরে দেশবিরোধী শক্তিগুলোকে কারা পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন যোগাচ্ছে?”

  • “কাদের মুখে ক্রমাগত ভারতের শত্রুদের ভাষা শোনা যাচ্ছে?”

প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে জানান, দেশের সন্তান-সন্তানাদিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে ভারতমাতাকে দুর্বল করার যে চক্রান্ত চলছে, পুরো দেশকে একজোট হয়ে সেই নকশাল মানসিকতা ও দেশবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। জাতীয় ঐক্য বজায় রাখাই সর্দার প্যাটেলের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি বলে মনে করিয়ে দেন তিনি।