নৈহাটির বিখ্যাত বড়মার পুজোয় ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত! কেন ৯ দিন বন্ধ থাকবে কষ্টিপাথরের মন্দির? জেনে নিন বিস্তারিত রুট ম্যাপ

চোরবাগান বিপর্যয় থেকে শিক্ষা: বেনজির নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী বড়মার পুজো
নৈহাটি: কলকাতার চোরবাগানের মর্মান্তিক অনভিপ্রেত ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নৈহাটির বিশ্ববিখ্যাত বড়মার পুজোকে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। দীপান্বিতা অমাবস্যায় অগণিত ভক্তের ভিড় সামলাতে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুজো শুরুর বেশ কিছুদিন আগে থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতা চরমে পৌঁছেছে।
সুরক্ষায় ড্রোন, সিসিটিভি ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পুজো সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার অমিত কুমার সিং পুরসভা, মন্দির কমিটি এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্তাদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক করেন। তিনি জানান, পুজো চলাকালীন তো বটেই, এমনকী প্রতিমা নিরঞ্জনের সময়ও বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখা হবে। সমগ্র মণ্ডপ ও আশেপাশের এলাকা মুড়ে ফেলা হবে সিসিটিভি ক্যামেরায়। আকাশপথে নিরন্তর নজরদারি চালাবে ড্রোন ক্যামেরা এবং উঁচুতে থাকবে একাধিক ওয়াচ টাওয়ার। এর পাশাপাশি এলাকা জুড়ে চলছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি। শিয়ালদা, হাওড়া, কল্যাণী কিংবা মালদা—কোন দিক থেকে কত পুজোপরিক্রমাকারী ট্রেন ও বাসে এসে পৌঁছবেন, তার আগাম হিসাব কষে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ রুট ম্যাপ।
৬ থেকে ১৪ নভেম্বর বন্ধ থাকছে মূল মন্দির ভক্তদের সুরক্ষার স্বার্থে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন যৌথভাবে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আগামী ৬ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সাধারণ ভক্তদের জন্য বড়মার মূল মন্দিরের দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
উৎসবের দিনগুলিতে দর্শনার্থীরা অরবিন্দ রোডে বড়মার বিশালাকার মৃণ্ময়ী রূপ দর্শন করতে পারবেন এবং পুজো দিতে পারবেন। উল্লেখ্য, আগামী ৮ নভেম্বর ঐতিহ্যবাহী বড়মার পুজো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১০৩তম বর্ষে পদার্পণ করা এই পুজো দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। পাশাপাশি হাজার হাজার ভক্ত গঙ্গার ঘাট থেকে দণ্ডি কেটে অরবিন্দ রোডের দিকে আসেন। অপ্রশস্ত রাস্তায় একই সঙ্গে মৃণ্ময়ী প্রতিমা দর্শন, নিত্যপুজোর কষ্টিপাথরের মূল মন্দির দর্শন এবং দণ্ডি কাটার ভিড় সামলানো বিপজ্জনক হতে পারে বলেই এই পদক্ষেপ।
সব স্তরে সমন্বয় ও স্বেচ্ছাসেবী বৃদ্ধি বড়মা পুজো কমিটির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য জানান, “কালীপুজোর সময় এখানে লাখ লাখ মানুষের সমাগমে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই ৬ থেকে ১৪ নভেম্বর মূল মন্দিরে নিত্যপুজো হলেও ভক্তদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে অরবিন্দ রোডে মৃণ্ময়ী প্রতিমা দর্শনে কোনো বাধা নেই। নিরাপত্তার স্বার্থে মহিলা পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সংখ্যাও কয়েক গুণ বাড়ানো হচ্ছে।”
মন্দির কমিটির মুখপাত্র অনন্ত চট্টোপাধ্যায় ও যুগ্ম সম্পাদক কমলকুমার ঘোষ নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য এনসিসি, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী একসঙ্গে কাজ করছে। প্রশাসনের এই আগাম সতর্কতামূলক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।